রিপোর্ট : এইচ এম শাহীন
ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা): কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও দোকানে প্রতিদিন যে বেকারি পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তার একটি বড় অংশই উৎপাদিত হচ্ছে চরম অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। বিস্কুট, কেক, রুটি ইত্যাদি খাদ্যপণ্য তৈরি ও বাজারজাতকরণে অনিয়মের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে, তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার মাধবপুর এলাকার দুটি বেকারি কারখানা—নুর বেকারি এবং ভাই বন্ধু বেকারিতে গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ দৃশ্য। নোংরা পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহার এবং আইনবহির্ভূত কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এসব কারখানা।
কারখানার ভেতরের ভয়াবহ চিত্র
মাধবপুর জানঘর রুটে অবস্থিত নুর বেকারিতে ঢুকতেই চোখে পড়ে মেঝেতে ছড়ানো ময়দা, যেখান দিয়ে ঘোরাফেরা করছে মশা-মাছি। কারখানার বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত হচ্ছে পুরনো ও পোড়া তেল, খোলা লবণের বস্তায় দেখা গেছে মরা তেলাপোকা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে—একটি ময়দার বস্তার ভেতরে পাওয়া গেছে মরা ইঁদুর।
এদিকে মাধবপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ভাই বন্ধু বেকারিতেও একই ধরনের নোংরা পরিবেশ দেখা গেছে। কর্মীরা কোনো ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই খোলা হাতে খাদ্যপণ্য তৈরি করছেন। ঘামের ফোঁটা পড়ছে সরাসরি খাদ্যে। পুরনো ও নষ্ট ব্রেড দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন করে প্যাকেটজাত ‘টুস বিস্কুট’। খোলা জায়গায় খাবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকায় মশা-মাছি নির্বিঘ্নে বসছে সেগুলোর উপর।
আইন না মানার অভিযোগ
বেকারি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিএসটিআই অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস ছাড়পত্র, সেনেটারি লাইসেন্স ইত্যাদি কোনোটিই নেই বেশিরভাগ কারখানার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়ার অধিকাংশ বেকারি কার্যত কোনো অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।
সাংবাদিকের উপর বাধা ও হুমকি
নুর বেকারিতে অনিয়মের ছবি তুলতে গেলে কারখানার মালিক আলম সংবাদকর্মীদের বাধা দেন এবং কারখানায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক সাংবাদিককে কারখানা থেকে বের করে দেন। এমনকি মোবাইল ফোনে লোকবল ডেকে এনে হামলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহলের দাবি
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত এসব বেকারি পণ্য খেয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন, আক্রান্ত হচ্ছেন জটিল রোগে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন চিকিৎসক ও সচেতন নাগরিকরা। তারা অবিলম্বে নুর বেকারি ও ভাই বন্ধু বেকারিসহ অননুমোদিত ও অবৈধভাবে পরিচালিত সকল বেকারি কারখানা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭