স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকা (আশুলিয়া): আশুলিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, পরে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে এবং পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ফার্মেসি ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মোছাঃ আয়েশা সিদ্দিকা সুরভী (২৬) আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা বর্তমানে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর দেওয়ান পাম্পের গলিতে ভাড়া বাসায় থাকেন। একই এলাকার মায়ের দোয়া ফার্মেসির মালিক ও মা আমেনা মডেল মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান ওহিদের (৩২) সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলো দীর্ঘদিন যাবৎ ডিভোর্সী নারী আয়েশা আক্তার সুরুভীকে।ঐ মহিলা আরবি পড়ায় পারদর্শী না থাকায় ওয়াহিদ পরামর্শ দেন আরবি পরার ওয়াহিদের নিজ মাদ্রাসায়।সকাল আনুমানিক ৬ টার দিকে ঐ নারী মাদ্রাসায় আসলে কাউকে না দেখে চলে যেতে চায়।
ওয়াহিদ ঐ নারীকে বলে বাচ্চারা এখনো আসেনি আপনি আমার মেহমান আমার নিজ কক্ষে বসেন।ওয়াহিদের রুমের ভেতরে ডুকলেই আয়েশা আক্তার সুরুভীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওয়াহিদ মাদ্রাসার ভেতরে তার নিজ কক্ষে জোর পুর্বোক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু পরে বিয়ে করতে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করলে তিনি ১৬ মে ২০২৫ তারিখ আশুলিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে পরদিন ১৭ মে রাতে ওহিদ তাকে ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন।
বিয়ের পরপরই জমি কেনার অজুহাতে ওহিদ ভুক্তভোগীর কাছ থেকে একটি ৮ আনা স্বর্ণের চেইন, একটি ৩ আনা স্বর্ণের আংটি ও ৪ আনার একজোড়া কানের দুলসহ মোট আনুমানিক ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার নেন এবং দুই মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরে ফেরত না দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ওহিদসহ তার পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে নানাভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে গালাগাল, মারধর এবং খোরপোষ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ওহিদ তাকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে দেয় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি প্রদান করে।
আয়েশা সিদ্দিকা সুরভীর অভিযোগ, ধর্ষণ মামলার দায় থেকে মুক্তি পেতেই কৌশলে তাকে বিয়ে করা হয় এবং পরিকল্পিত ভাবে তার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়েছে। এখনো যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি থানায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এই বিষয়ে ওয়াহিদের মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মীরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে ওয়াহিদের মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭