নিজস্ব প্রতিবেদক
গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর দীর্ঘ কারাবাস, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও ত্যাগের ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা। তাদের বক্তব্য, একটি রাজনৈতিক ঘটনা বা কয়েকটি বক্তব্যের ভিত্তিতে মামুনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের মূল্যায়ন করলে পুরো চিত্রটি সামনে আসে না।
সমর্থকদের দাবি, বছরের পর বছর কারাগারে থেকেও গিয়াস উদ্দিন আল মামুন বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন। ২০০৭ সালের ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর তিনি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান। বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে।
মামুনের সমর্থকদের বক্তব্য, তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে হলে দীর্ঘ কারাবাসের সময়কার পরিস্থিতি ও তাঁর অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে বিভিন্ন মামলার প্রেক্ষাপটে মামুনের অবস্থান নিয়েও নানা আলোচনা হয়েছে।
তাদের দাবি, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ বা চাপের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এলেও মামুন সে পথে হাঁটেননি। তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন না করে এটিকে সমর্থকদের বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
সমর্থকদের আরও দাবি, দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার মধ্যেও মামুন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন নেতাকর্মীর জামিন, খাবার ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় তাঁর ভূমিকা ছিল বলেও তারা দাবি করেন। এসব দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ বা বিস্তারিত নথি প্রকাশ্যে না থাকায় এগুলোকে তাঁর সমর্থকদের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া কয়েকটি মামলায় আদালতের রায়ও তাঁর পক্ষে গেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে অর্থপাচারের মামলায় তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে দেওয়া আগের দণ্ডের রায়ও হাইকোর্টে বাতিল হয় এবং দুজনকে খালাস দেওয়া হয়।
মামুনের সমর্থকদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতভেদ ও সমালোচনা থাকতেই পারে। তবে তাঁর দীর্ঘ কারাবাস, প্রতিকূলতার সময়কার ভূমিকা এবং রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক বাদ দিয়ে তাঁকে মূল্যায়ন করলে সেটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস হবে না।
তারা বলেন, “ইতিহাসের একটি অংশ তুলে ধরে পুরো সত্যকে আড়াল করা যায়, কিন্তু ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না।” একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তির দীর্ঘ ত্যাগ ও প্রতিকূলতার সময়কার ভূমিকার প্রতি ন্যূনতম সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭