
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার হাওরাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের চোখের সামনে হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর ঋণের টাকায় ফলানো ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যে সময়টায় ঘরে ঘরে নতুন ধান ওঠার আনন্দে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কৃষকরা বলছেন, প্রকৃতির এমন আচরণ তাদের সব হিসাব-নিকাশ ওলট-পালট করে দিয়েছে ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আবদুল্লাহপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের হাওরগুলোতে অন্তত দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। এসব এলাকায় ধান কাটার আগেই পানি ঢুকে পড়ায় কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।মিঠামইন উপজেলার বৈরাটি ও ঢাকী ইউনিয়ন এবং ইটনা উপজেলার ধনপুর, চৌগাঙ্গা ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরেও একই চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দ্রুত না কমলে ধান কাটা সম্ভব হবে না। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ধানগাছ কয়েক দিন পানির নিচে থাকলে দ্রুত পচন ধরবে এবং ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
.
অন্যদিকে, শুধু খেতের ধানই নয়, আগেই কেটে রাখা ধানও রক্ষা করা যাচ্ছে না। সোমবার রাতে অতিবৃষ্টির কারণে মাঠে শুকাতে দেওয়া কয়েকশ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।কৃষকদের অভিযোগ, নদী ভরাট হয়ে যাওয়া এবং ফসল রক্ষা বাঁধের ত্রুটির কারণেই প্রতি বছর এমন জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। খোয়াই নদীর পানি লাখাই হয়ে কালনী নদীতে যাওয়ার কথা থাকলেও, দীর্ঘদিন ধরে কালনী নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে উজানের পানি হাওরে জমে থেকে ধানের ক্ষতি করছে।
.
নাভানা ফিস এগ্রো কেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো হাবিবুর রহমান ভূইয়া বলেন -- প্রায় ৪৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তবে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে অনেক কৃষক মাঠে নামতে পারছেন না। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাজারমূল্যের অস্থিরতায় কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা চরম সংকটের মধ্যে পড়েছেন। হাবিবুর রহমান ভূইয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মৃতপ্রায় এইসব প্রান্তিক কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের আহবান জানিয়েছেন। তার দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭