প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১, ২০২৬, ৯:০২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬, ৪:৩৩ পি.এম
গানচিলের দুই দশকের পথচলা উদযাপন

বিশ বছর আগের কথা। ২০০৫ সালের শেষ দিকে নকীব খান, কুমার বিশ্বজিৎ, আসিফ ইকবাল ও রেজা রহমানের হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে গানচিল। প্রতিষ্ঠানটির দুই দশক উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবের ক্রিস্টাল প্যালেস হল যেন ফিরে গিয়েছিল এক সোনালি অতীতে। নব্বই দশক থেকে শুরু করে দুই হাজারের দশক এবং আজকের সময়ের—কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীতের নেপথ্যের মানুষদের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। উপলক্ষ—দেশের অন্যতম বৃহৎ সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গানচিলের দুই দশকের পথচলা উদযাপন।
গানচিলের এই ২০ বছর পূর্তির উৎসবে কেবল স্মৃতিচারণ নয়, ছিল সংগীত নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া দৃঢ় প্রত্যয়। এ দিন পুরোনোকে সঙ্গে নিয়ে নতুন রূপে, নতুন লোগো ও নতুন পরিকল্পনায় আরও সমৃদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে উচ্চারিত হয় গানচিলের নতুন মূলমন্ত্র— ‘উত্তরাধিকার কখনো অবসর নেয় না, সে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে।’
সময়ের বিবর্তনে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হিসেবে এককভাবে দায়িত্ব পালন করছেন আসিফ ইকবাল। এই বিশেষ আয়োজনে তার উদ্যোগেই গানচিলের তিন প্রতিষ্ঠাতা—নকীব খান, কুমার বিশ্বজিৎ ও রেজা রহমানকে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। কানাডায় অবস্থান করায় কুমার বিশ্বজিৎ সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে আবেগ ভাগ করে নেন সবার সঙ্গে।
সম্মাননা গ্রহণকালে তিন প্রতিষ্ঠাতার কণ্ঠে ধরা পড়ে গানচিলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, স্মৃতি আর আবেগ। মুহূর্তের জন্য হলেও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। গানচিলের সাম্প্রতিক পথচলায় সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতের জন্য আশীর্বাদ জানান—যেন সংগীতের এই পাখিটি আরও বহুদূর উড়তে পারে। সম্মাননা পর্ব শেষে শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক আয়োজন। একে একে মঞ্চে উঠে গান পরিবেশন করেন সালমা, কিশোর, মাহাদি, দোলা, কোনাল, নিলয়সহ আরও অনেক শিল্পী। তাদের কণ্ঠে ভেসে আসে গানচিলের জনপ্রিয় সব গান। শ্রোতারা যেন মুহূর্তে ফিরে যান নিজেদের জীবনের কোনো এক সোনালি অধ্যায়ে—যেখানে এই গানগুলোই ছিল অনুভূতির সঙ্গী।
২০০৫ সালে সুস্থ ও মানসম্মত সংগীতচর্চার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা গানচিল শুরুতেই শ্রোতাদের উপহার দেয় ক্লোজআপ ওয়ান তারকা মেহরাব-রুমির ‘আড্ডা’ এবং ‘বিউটির চরণদাসী’ অ্যালবাম। তবে ২০০৮–০৯ সালের দিকে পাইরেসির আগ্রাসন ও এফএম রেডিও সংস্কৃতির প্রভাবে গানের বাজারে নেতিবাচক সময় আসে। ২০১২ সালে অ্যালবাম প্রকাশ সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও গানচিলের পথচলা থেমে থাকেনি। অবশেষে ২০১৫ সালের পর নতুন উদ্যোমে আবারও সক্রিয় হয় প্রতিষ্ঠানটি। আয়োজনের ফাঁকে ফাঁকে মাইক্রোফোনে ভেসে আসে সেই ইতিহাসের কথাও।
অনুষ্ঠানে গানচিলের আগামী দিনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন কর্ণধার আসিফ ইকবাল। তিনি জানান, সামনে আসছে নাটক, গানচিল অরিজিনালস, মিউজিক এবং অদেখা বাংলাদেশ নিয়ে ‘পথের গল্প’—যা দর্শক-শ্রোতাদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।
পুরনো আয়োজনটি উপস্থাপনা করেন মৌসুমী মৌ ও আবু হেনা রনি। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় আয়োজন হয়ে উঠে আরও বর্ণিল।
আয়োজনের একেবারে শেষ অংশে প্রদর্শিত হয় গানচিল অরিজিনালসের দ্বিতীয় গান ‘ও জান’-এর মিউজিক্যাল ফিল্ম। আসিফ ইকবালের লেখায় গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কোনাল ও নিলয়। যৌথভাবে সুর করেছেন আভ্রাল সাহির ও পশ্চিমবঙ্গের লিংকন, সংগীতায়োজনেও ছিলেন আভ্রাল সাহির। ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন তানিম রহমান অংশু। নেপালের মুস্তাংয়ের জমসম অঞ্চলের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে গানটির শুটিং হয়েছে, যেখানে পারফর্ম করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল ও রেহান।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭
Copyright © 2026 আজকের দুর্নীতি. All rights reserved.