২০১২ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে গোপদীঘি থেকে সন্ধ্যার দিকে খবর এলো,আম্মা খুব অসুস্থ।বর্ষাকাল,চারিদিকে হাওরের পানি আর পানি,ঘোর অন্ধকার।জাফ্রাবাদে দাঁড়িয়ে আম্মাকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে ছটফট করছিলাম।সেই দিশেহারা মুহূর্তে কোনো কথা না ভেবে তুমি এসে সামনে দাঁড়ালে।বললা“এত চিন্তা করার কিছু নাই,চল আমি যাবো তোমার সাথে।”ঘোর সন্ধ্যায় ওই উত্তাল হাওরে নৌকায় করে আমার সাথে গোপদীঘির উদ্দেশ্যে ছুটে চললা তুমি।আম্মার অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবার সেই রাতেই আম্মাকে নিয়ে হাওরের ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে ছুটে এলাম কিশোরগঞ্জের সদর হাসপাতালে,হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার জানালেন আম্মা আর নেই,আমি দিশেহারা হয়ে বেহুশ হয়ে পড়লাম,এই অবস্থায় আম্মা কে নিয়ে গোপদীঘি ফেরত আসলাম সাথে ছিলে তুমি।
শুধু সেদিনই নয়,জাফ্রাবাদে ঘর তোলার সময় যখন আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলাম,তখনও প্রথম সাহসটা তুমি-ই দিয়েছিলে।এমন শত শত গল্প,শত শত স্মৃতির সাগরে তুমি জড়িয়ে আছো ভুট্টু।জীবনের কোনো কাজে কখনো পিছপা হতে দেখিনি তোমাকে।তুমি শুধুই বন্ধু ছিলে না,তুমি ছিলে আমার কলিজার টুকরা, আমার সাহস,আমার ডান হাত।
আজ ঠিক সন্ধ্যার পর খবর এলো,তুমি আর নেই।
ইতিহাস যেন বড় নিষ্ঠুরভাবে নিজেকে ফিরিয়ে আনলো।আজ সেই একই বর্ষাকাল,চারিদিকে থৈ থৈ পানি,চারপাশজুড়ে ডাকাতের ভয় আর উপদ্রব।আজ আমি গোপদীঘিতে থমকে দাঁড়িয়ে আছি।কিন্তু আজ তোমাকে একনজর দেখতে যাওয়ার মতো কোনো 'ভুট্টু' আমার পাশে নেই।এত রাতে,এমন দুর্যোগে আমাকে সাহস দিয়ে তোমাকে দেখতে নিয়ে যাওয়ার মতো আর কেউ নেই।
আজ আমি নিঃস্ব,একেবারে একাকী।আমার দুটো হাতই যেন একসাথে ভেঙে গেছে।এত দ্রুত আল্লাহ তোমাকে আমাদের থেকে কেড়ে নিয়ে চলে যাবে,তা স্বপ্নেও ভাবতে পারি নাই।
আল্লাহ তাআলা তোমাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করুক এবং আমার কলিজার টুকরা বন্ধুকে পরপারে পরম শান্তিতে রাখুক।(আমিন)।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭