মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: ফেরদৌস করাইশি
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘির কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বেড়িবাঁধ এখন গোবরের কারণে নোংরা ও দুর্গন্ধময় হয়ে পড়েছে। বেড়িবাঁধের পাশের কিছু বাসিন্দা রাস্তার ওপর গোবর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি লাকড়ি (চটা ও ঘুঁষি) তৈরি করায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার মানুষের যোগাযোগের সুবিধা এবং বর্ষাকালে প্রচণ্ড ঢেউয়ের হাত থেকে গ্রামগুলোকে রক্ষার জন্য সরকার এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে। বর্তমানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে মিঠামইন, করিমগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। শত শত অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসও চলাচল করে এই সড়কে। পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী গোপদীঘির বেড়িবাঁধে ঘুরতে আসেন।কিন্তু বেড়িবাঁধের ওপর ও আশপাশে গোবর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখায় পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গোবর শুকিয়ে লাকড়ি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয়েই রাস্তার ওপর গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় পথচারীদের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, গত বৈশাখ মাসে অনেকে বেড়িবাঁধের রাস্তা ধান শুকানো ও খলা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এতে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরির প্রবণতা। ফলে দৃষ্টিনন্দন এই বেড়িবাঁধটি তার সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
বেড়িবাঁধের পাশেই ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করলেও বিষয়টি সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।এলাকাবাসী দ্রুত বেড়িবাঁধের ওপর থেকে গোবর ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা এবং ভবিষ্যতে রাস্তার ওপর গোবর, ধান বা অন্য কোনো সামগ্রী শুকানো ও সংরক্ষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই বেড়িবাঁধকে গোবর ও দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করে তুলবে।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭