নিজস্ব প্রতিনিধি:
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো আওয়ামী লীগ নেতা খবির আহমেদ কবির ওরফে ‘পিস্তল কবির’ এখনো গ্রেফতার হয়নি। একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি হলেও তিনি দিব্যি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলন দমনে ভয় দেখানো ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এই নেতা প্রশাসনের নাকের ডগায় থাকলেও অজানা কারণে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। অথচ আওয়ামী লীগ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত পিস্তল কবিরের ভয়েই গত জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অজানা আতঙ্ক ছিল ছাত্র-জনতার।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রথম কয়েকদিন সন্ত্রাসী পিস্তল কবির গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও এখন প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীরা ছাত্র জনতা।
গত ২০ জুলাই টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন ঢাকা ময়মনসিংহ রোডে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা মূল গেইটের সামনে দক্ষিণ পাশে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলা চালায় আওয়ামী লীগের লোকজন সেখানে খবির আহমেদ কবিরও ( পিস্তল কবির) তার লোকজন নিয়ে ছাত্র জনতার উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায়... নামের একটি ছেলে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়।.... আলেয়া বেগম এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নং ১০, স্বঃ ৩২৯৮(৫)/১, ২১/০৯/২৪ইং।
এরপর গত ৪ আগস্ট ২০২৪ উত্তরা পূর্ব থানাধীন ঢাকা রোডের পূর্বপাশে আজমপুর আমির কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশে দুপুর ১২.২৫ মি. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলা চালায় খবির আহমেদ কবির ( পিস্তল কবির) । এ সময় তার নেতৃত্বে এই হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অংশ নেয় কয়েকশত আওয়ামী লীগের কর্মী। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় অনেক বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারী। উক্ত ঘটনায় আহত জুবায়ের হাসান ইউসুফ (২০), পিতা হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় খবির আহমেদ কবিরকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনকে আসামি এবং অজ্ঞাত নামা ১৫০/২০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৬/১১৯ স্বাঃ ১৮(৫)১ ২৩/০৮/২৪। ৫ আগষ্ট ২০২৪ বিকেল ৫.৩০ মি. উত্তরা পূর্ব থানাধীন ১৬ নং সেক্টরস্থ আজমপুর প্রাইমারি স্কুলের পাশে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে আওয়ামী লীগ নেতা খবির আহমেদ কবির (পিস্তল কবির) এর নেতৃত্বে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারী আইসক্রিম বিক্রেতা। উক্ত ঘটনায় নিহতের স্ত্রী লাইজু বেগম খবির আহমেদ কবির (পিস্তল কবির)কে এক নম্বর আসামি করে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত উল্লেখ করে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩/১১৬। এছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা খবির আহমেদ কবির (পিস্তল কবির)
এর নামে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র জনতার উপর হামলার একাধিক হত্যা ও হত্যা চেষ্টার মামলা আছে। কিন্তু সন্ত্রাসী পিস্তল কবির প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অজানা কারণে তাকে গ্রেফতার করছে না।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, সংঘর্ষের পূর্ব মুহুর্তে পিস্তল কবির ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাত্র-আন্দোলন বিরোধী নানা স্লোগান দেয়। পরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে হামলা ও গুলিবর্ষণ করেন। সেখানে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দেখা যায় আওয়ামী ক্যাডার পিস্তল কবিরকে।
২০ জুলাই ওই হামলায় আহত রাজুর মাআলেয়া বেগম বলেন, আমার ছেলেকে আহত করার ঘটনার মামলায় ফরহাদ পিতা মৃত আব্দুল কুদ্দুস, জিলানী পিতা মৃত আব্দুল কুদ্দুস, আমির হোসেন পিতা মৃত আবুল কাশেম এরা এই মামলায় যাবিনে আইসা আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিতেছে। আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।
৪ আগস্টের ওই হামলায় আহত শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ওইদিন ছাত্রদের উপর হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসী পিস্তল কবির ছিল। আমার ছেলেও হামলায় আহত হয়েছে। কিন্তু সে এখনো প্রকাশ্যে ঘুরছে। আমি এর উচিত বিচার চাই।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আরেকজন বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগ নেতা খোকন, থানার দালাল নামে খ্যাত খোরশেদ আলমের যোগসাজশে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, থানায় মামলা বানিজ্য থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরণের অপরাধেই যুক্ত ছিল। তবে ৫ আগস্ট হাসিনা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে কয়েকদিন পিস্তল কবির গা ঢাকা দিলেও বর্তমানে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। থানা থেকে তার বাসা ২০০ গজ দূরে অথচ প্রশাসনের নজরদারি নেই বললেই চলে। তিনি এলাকায় বলে বেড়াচ্ছেন, সবকিছু ম্যানেজ হয়ে গেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলেনের একজন বলেন, ৪ আগস্ট যারা নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের ভিডিও-ছবি প্রশাসনকে দিয়েছি। তাদের গ্রেফতারের দাবীতে আমরা সড়ক অবরোধও করেছি। কিন্তু এখনো কবিরদের মতো আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের অনেকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এটা ২৪ এর চেতনার জন্য হুমকি। প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি তাদের গ্রেফতারের জন্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ ইস্কান্দার হাবিব বলেন, আওয়ামী লীগের দূসর ও ছাত্র জনতার হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭