প্রতিনিধি
সাবেক মেম্বার হাবিবুর রহমান তারা ছাত্র জীবনে ছাত্রদল করলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে ।নিজের রং পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগের সকল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে ।
আওয়ামী লীগের দলীয় লোক হয়ে যান ।
5 আগস্টের পর দেশ নতুন করে স্বাধীন হওয়ার পর বিএনপি'র পক্ষ থেকে রায়পুর ইউনিয়নের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করে ।
হাবিবুর রহমান তারা ব্রাহ্মণকান্দা বাজার আয়নালের মোড়ে নিয়মিত জুয়ার আসর পরিচালনা করতেন রেজাউল হক বকুর ছত্রছায়ায়।
নিয়মিত জুয়ার আসর পরিচালনা করতে গিয়ে মধুখালী থানায় গ্রেফতার হয়েছে হাবিবুর রহমান তারা সহ ১৩ সহপাঠী জেল ও খেটেছেন এটা এলাকাবাসী সবাই জানে।
সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় ব্রাহ্মণ কান্দা বাজার সংলগ্ন জালিয়া মোবারক দিয়া ব্রিজ ও পুকুরপাড় জোয়ার আসর।
মাঝ রাত পর্যন্ত চলে এই জুয়ার আসর ।
ভোর রাত হলেই দিঘুলিয়া থেকে মধুখালী পর্যন্ত রাস্তায় বাস ট্রাক ডাকাতির ঘটনাও ঘটে ।
অনেকেই সন্দেহ করে এই জুয়ার আসরে টাকা হেরে ।
সেই টাকা ডাকাতির মাধ্যমে আবার ঘরে ফিরিয়ে আনে ।
স্থায়ীভাবে যদি ব্রাহ্মণকান্দা জুয়ার আসর বন্ধ না হয় ।
তাহলে রাস্তার গাড়ি ডাকাতে কোনদিনই বন্ধ হবে না।
যারা ছুরি ছিনতাই ডাকাতির সাথে জড়িত নিজের দোষ ঢাকার জন্য ।
দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে একজন জুলাই আন্দোলনে আহত সৈনিক আতিয়ার রহমানের উপরে।
আতিয়ার রহমান একজন বিএনপি পরিবারের সন্তান ।
আতিয়ারের পিতা মোঃ ফরমান সরদার, কামাল দিয়ে ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক।
আতিয়ারের বড় ভাই ।
শফিকুল ইসলাম জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক।
আতিয়ার একজন সাহসী এবং প্রতিবাদী যুবক। অপরাধ দেখলে নিজেকে সামলিয়ে রাখতে পারেনা প্রতিবাদ করাটাই আতিয়ারের স্বভাব।
২০১৮ সালে নির্বাচনে চাঁদপুর কেন্দ্র বিএনপির সমর্থক হিসেবে অ্যারেস্ট হয়েছিলেন আতিয়ার।
জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ।
শত্রুর বন্দুকের নলের সামনে বুক পেতে দিয়েছে। আতিয়ারের পায়ের থেকে বাম হাত পর্যন্ত চল্লিশটা রাবার বুলেট শরীরে আঘাত করেছে ।
তবুও আন্দোলন থেকে এক পাও সরে আসে নাই। কারণ মনে একটাই সাহস ছিল দেশটা স্বাধীন করতে হবে ।
আমি এদেশের একজন সাহসী সৈনিক।
সেই আতিয়ারের নামে সাবেক মেম্বার হাবিবুর রহমান তারা ও কামাল মোল্লা মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে ।
চুরি ডাকাতিসহ মাদক দ্রব্য ব্যবসাহিক তকমা লাগিয়ে দিয়েছে।
ব্রাহ্মণকান্দা বাজার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। আতিয়ার কে ব্রাহ্মণকান্দা বাজারে ওর নিজের দোকান থেকে ধরে নিয়ে ।
অমানুষিক নির্যাতন করে আজ থেকে তিন বছর আগে ।
তারা, কামাল ও কাদেরসহ ওদের সন্ত্রাসী বাহিনী।
ওই সময় ক্ষমতাসিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের।
প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমানের সেক্রেটারি রেজাউল হক বকুর কাছে বিচার চেয়েও বিচার পাই নাই ।
কারণ এই সন্ত্রাসী বাহিনী বকুর আপন আত্মীয়।
এখন দেশ স্বাধীন হয়েছে একজন জুলাই আন্দোলনের আহত সৈনিকের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সম্মানহানি করছে ।
এর তীব্র নিন্দা জানাই এলাকাবাসী।
মোহাম্মদ আতিয়ার রহমানের একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন সহজ ছিলনা জুলাইয়ের আন্দোলন ।
আমি ১৪ তারিখ থেকে ঢাকা উত্তরা ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করি ।
টানা আন্দোলন চলাকালে ১৭ তারিখে আমি গুলিবিদ্ধ হই ।
প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সেদিনের মতন ঘরে ফিরে যাই ।
শুরু হয় বাংলাদেশের লকডাউন মোড়ে মোড়ে পুলিশ সেনাবাহিনী চেকপোস্ট বসিয়ে সকলকে চেক করা হয় ।
মোবাইলে কোন ধারণকৃত ভিডিও আছে নাকি। কারো শরীরে গুলির চিহ্ন বা কোন আঘাতের চিহ্ন আছে নাকি ।
নিজের জীবনটা বাজি রেখে উত্তরার অলিগলি নালা দিয়ে শহর ত্যাগ করে ।
আমি আমার বড় ভাইয়ের বাসা গাজীপুরে আশ্রয় নেই ।
সেখানে আশ্রয় নেই সেখানে পাঁচ দিন থাকার পর। গুলির ঘা একটু শুকালে আমি রাতে ট্রাকে করে চলে যাই আমার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর মির্জাকান্দি।
আমি চেষ্টা করেছিলাম আমার আঘাতের চিহ্নগুলো ঢেকে রাখার জন্য ।
দোকানে চা খেতে বসলে হাতের দাগগুলো দেখে আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করে ।
আমি কাউকে কোন প্রশ্নের উত্তর দেয় না ।
তবুও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী বুঝে ফেলে আমি একজন আন্দোলনের অংশগ্রহণ করে আহত সৈনিক ।
আমার উপরে নজরদারি শুরু হয় আমার মোবাইল ট্র্যাকিং করা হয় ।
আমি মোবাইল বন্ধ করে দিনে যেখানেই থাকি রাতে আমাদের বাসার পাশে সোলেমানদের বাসার ছাদে ঘুমিয়েছি ।
সেখান থেকে ৩ তারিখকে আমার ভাইস্তা রাসেলের সহযোগিতায় আমি মাঝকান্দি পর্যন্ত আসি মোটরসাইকেল যোগে ।
সেখান থেকে অটো দিয়ে ফরিদপুর চর এলাকায় আমার এক মামার বাসায় আশ্রয় নেই ।
ফরিদপুর শহরে ৩ তারিখ ৪ তারিখ ও ৫ তারিখ সকালে সরাসরি আন্দোলনে যুক্ত হই ।
আমরা যখন ফরিদপুর কোটপাড়া থেকে নিউমার্কেটের দিকে মিছিল নিয়ে এগোতে থাকি। তখন দুপুর 12 টা বেজে গেছে কিছুক্ষণের মধ্যেই শুনতে পেলাম ।
স্বৈরাচার সরকার শেখ হাসিনা পালিয়েছে ।
সেদিন মনে হয়েছিল আমরা স্বাধীন আমরা স্বাধীন এই আমাদের স্বাধীনতা ।
দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলাম শত্রুদের বন্ধুদের সামনে ।
নিজের বুকটা এগিয়ে দিয়েছি শহীদ হতে চাই বলে। আর এই চাওয়াটা মানুষ নামের পশুগুলা আমার নামের পিছনে ট্যাগ লাগাচ্ছে ।
আমি একজন মাদক ব্যবসায়ী বাজারে চুরি ডাকাতি আমার জন্য বেড়ে গেছে।
আমাকে যারা মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে এবং বিনা অপরাধে আমার উপর সন্ত্রাসী হামলা করে নির্যাতন করেছে ।
আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।
এভাবেই আতিয়ারের জীবনে ঘটে যাওয়া জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরলেন। আজকের দুর্নীতি আতিয়ারের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে ।মধুখালী থানা বা বাংলাদেশে কোন থানায় কোন মামলা বা কোন অভিযোগ নাই ।
আজকের দুর্নীতি পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করছি সঠিক তদন্ত করে এই সমস্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করুন।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭