রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ আজ এক নীরব বিপ্লবের কবলেতবে এটি প্রযুক্তির নয়, নৈতিকতার। শহর থেকে গ্রাম, থানা থেকে ইউনিয়ন, শিশু থেকে বৃদ্ধ দেশের সব স্তরের মানুষ এখন এক সর্বনাশা নেশার দিকে ছুটছে। নাম তার অনলাইন ক্যাসিনো জুয়া।
সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, গাজীপুরসহ দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক, ব্যবসায়ী, বেকার তরুণ, এমনকি শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত এখন মোবাইল স্ক্রিনে ‘উইথড্র-ডিপোজিট’ খেলার ভয়ঙ্কর ফাঁদে বন্দী।
আসক্তি নয়, এটি এক মানসিক দাসত্ব লোকজন দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটাচ্ছে “উইথড্র হইল?কিংবা “ডিপোজিট দিলাম, আর কত?
পূর্বে তারা যাদের সঙ্গে সমাজ গড়ে তুলেছিল—ভিক্ষুক, অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবেশী আজ তারা কারো চোখেই মানবিকতা দাবি করার মত অবস্থানে নেই।
গাজীপুরের এক রিকশাচালক বলেন “গত সপ্তাহে পাঁচ হাজার টাকা হেরে রাইতে ঘুম হয় নাই। কিন্তু পথের ভিক্ষুক বেটারে দশ টাকা দিতে মন চায় না—কারণ মনে হয় ওতে তো লাভ নাই!”
লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়ে যাচ্ছে, তবু থামছে না কেউঅনলাইন জুয়া অ্যাপ ও ওয়েবসাইটগুলো “বোনাস”, “ফ্রি স্পিন”, “রেফারেল কমিশন এই প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে মানুষকে বারবার টানছে।
তরুণরা চাকরির টাকা, বোনাস, এমনকি ধার-দেনাও ঢালছে এই ডিজিটাল জুয়ার আসরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন বাংলাদেশের ভেতরে কোটি কোটি টাকা এই অবৈধ জুয়া সাইটে খরচ হচ্ছে, যার বড় অংশই বিদেশে পাচার হচ্ছে।
মানসিকতা: লোভে পাপ, পাপে শাস্তি’ এখন বাস্তব ছবি বাংলাদেশের মানুষের অনলাইন আচরণে নৈতিকতা যেন বিলুপ্ত। কেউ একজন রাস্তায় পড়ে থাকলে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু জুয়া অ্যাপে ৫০০ টাকা হারালেও সেটা “কমন ঘটনা” বলে মানছে।
সামাজিক আচরণ বিশেষজ্ঞ ড. নাজমুল হক বলেন:এই জাতীয় আসক্তি এক ধরনের ডিজিটাল মানসিক ব্যাধি। মানুষ তার অনুভূতি, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ সবকিছুই মোবাইল স্ক্রিনে বিসর্জন দিচ্ছে।
অপরাধ, আ ত্ম হ ত্যা ও সামাজিক ভাঙনের ঝুঁকি অনলাইন জুয়ার কারণে পরিবারে দ্বন্দ্ব ও ডিভোর্স বাড়ছে। কিশোর অপরাধী তৈরি হচ্ছে আ ত্ম হ ত্যা র ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক দুর্বলতা দিনদিন বাড়ছে কেন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই?
যদিও অনলাইন জুয়া বাংলাদেশে অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ, তবু নির্লিপ্ত প্রশাসন ও দুর্বল সাইবার নজরদারির কারণে জুয়া অ্যাপগুলো অনায়াসে চলছে।
অবৈধ মোবাইল লেনদেন ও এজেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে।
সমাধান কী সাইবার ও মোবাইল লেনদেনের উপর কড়া নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ। অনলাইন গেম্বলিং ও বেটিং অ্যাপ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। স্কুল-কলেজ থেকে সচেতনতা শিক্ষা শুরু, সামাজিক আন্দোলন ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রচারণা। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে জুয়া প্রচার নিষিদ্ধ করে আইনি ব্যবস্থা। এখনও সময় আছে—ফিরে আসুন একটি জাতি যখন লোভকে জীবনের চালিকা শক্তি করে ফেলে, তখন ধ্বংস অনিবার্য।
বাংলাদেশের সামনে এখন দুটো পথ—নৈতিকতা ও মূল্যবোধে ফিরে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা, অথবা প্রযুক্তির নামে পাপের খেলায় হারিয়ে যাওয়া।
এই সিদ্ধান্ত এখন আমাদের সবার কারো একার উপর দোষ ফেলে লাভ নেই পুরো সিস্টেমটাই অফ করে দেওয়া উচিত।আপনার এলাকায় এমন কতজন অনলাইন জুয়া খেলে জানেন?
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭