গাজীপুর কালিয়াকৈর প্রতিনিধি:
যে খানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপনের ঘোষণা দিয়েছেন।কিন্তু বর্তমানে দিনে রাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে।সংরক্ষিত বনভূমি পাহারা দেওয়া এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা প্রতিরোধ করা বন প্রহরীর দায়িত্বের অংশ। চন্দ্রা বনবিটের আওতায় নৌকা চালক লুৎফরের বিরুদ্ধে গাছ কাটার ঘটনায়। যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।এই লুৎফর রহমান পেশায় একজন নৌকা চালক এর খুটির জুর কোথায, বিভিন্ন সময় মানুষের কাছে থেকে অর্থের বিনিময়ে সরকারি খাস জমিতে ঘর করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে বনভূমির আকাশমনি উডলট বাগানের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহেল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক শহিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এ ব্যাপারে চন্দ্রা বনবিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে আমাদের লোকজন পাঠানো হয়েছে। কাঠগুলো জব্দ করা হয়েছে। তবে গাড়ি না পাওয়ায় অফিসে আনা হয়নি। সন্ধ্যার মধ্যে গাছগুলো অফিসে নিয়ে আসা হবে এবং এসব ঘটনার সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাঠ জব্দের পর পরিবহনের গাড়ি না পাওয়ায় সেগুলো অফিসে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সন্ধ্যার মধ্যে অফিসে নেওয়ার আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।এবিষয়ে কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা তৌসিফ জোয়াযেদ বলেন, বনভূমির জমি থেকে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। বনভূমির জমি থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গাছগুলো দ্রুত জব্দ করাসহ এর সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কাঠ জব্দ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেলেও বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। মামলা হয়েছে কি না, জব্দ কাঠ অফিসে নেওয়া হয়েছে কি না, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না এবং বন প্রহরীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ।চন্দ্রা বনবিটের এ ঘটনা শুধু ৩০টি আকাশমনি গাছ কাটার অভিযোগ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বনসম্পদ জব্দের পর ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বপ্রাপ্ত বনকর্মীদের ভূমিকা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়।

অপরদিকে সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাঁদের বিরুদ্ধেই যদি বনভূমির গাছ কাটায় সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব শুধু কাটা কাঠ জব্দ করা নয়—বনসম্পদ ধ্বংসের অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনাও সেই দায়িত্বের অংশ।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭