সারা দেশের ন্যায় বৃহত্তর কুমিল্লাতেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিমা তৈরি ও মণ্ডপ সজ্জার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। উৎসবকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
**প্রস্তুতি ও মণ্ডপের সংখ্যা:**
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর, ব্রাহ্মণপাড়া, এবং দেবিদ্বার উপজেলাসহ সকল উপজেলায় প্রতিমা তৈরি এবং সেগুলোকে নানা রঙে সাজানোর কাজ প্রায় শেষের দিকে। মণ্ডপগুলোকেও দৃষ্টিনন্দন করে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলায় মোট ৮১২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।এর মধ্যে মুরাদনগর উপজেলায় ১৫১টি, দেবিদ্বার উপজেলায় ১০৩টি এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ১৭টি পূজামণ্ডপ রয়েছে)] বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকায় ১০টি ইউনিয়নে মোট ৬৫টি এবং মুরাদনগর থানার ১২টি ইউনিয়নে ৮৬টি পূজা মণ্ডপ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
**নিরাপত্তা ব্যবস্থা:**
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি-গ্রহন করেছেন-পূজা উপলক্ষে মোট ৯৫০ জন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন নিরাপত্তাকে তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে: পূজার প্রস্তুতি পর্ব, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন।ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং ডিবি পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত থাকবে)কুমিল্লা র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর পক্ষ থেকেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান "দৈনিক আজকের দুর্নীতি" পত্রিকাকে জানিয়েছেন, পুলিশ সুপার মহোদয় ও সহকারী পুলিশ সুপার মহোদয় এর নির্দেশে তাঁর থানা এলাকার প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাঙ্গরা বাজার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকিরও একই সুরে কথা বলেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে কঠোর নিরাপত্তার প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেছেন। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) জানান, তাঁর থানা এলাকার ১৭টি পূজা মণ্ডপেও একয় নির্দেশে প্রশাসনিকভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
**সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি:**
বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকার পূর্বদৈর পূর্ব ইউনিয়নের সুনামধন্য চেয়ারম্যান শুকলাল দেবনাথ উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমান সকলে মিলেমিশে পূজা উদযাপনে সহ যুগিতা করে এবং একে অপরের সার্বিক সহযোগিতায় এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিনি নিজে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন বলেও জানান।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য প্রতিটি উপজেলা প্রশাসন এবং থানা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭