এইচ এম শাহিন নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লা, ব্রাহ্মণপাড়া:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গজিয়ে উঠছে অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবার নামে প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান চালু হচ্ছে—যার অধিকাংশেরই নেই সরকারি অনুমোদন, প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান কিংবা নিবন্ধিত চিকিৎসক।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এসব সেন্টারে বেনামী ডাক্তারদের নাম ব্যবহার করে চলছে রোগ নির্ণয়ের নামে প্রকাশ্য প্রতারণা। যথাযথ যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল না থাকা সত্ত্বেও নির্বিচারে পরিচালিত হচ্ছে আলট্রাসনোগ্রাফি, এক্স-রে, ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষা। ফলস্বরূপ, ভুল রিপোর্টের কারণে অনেক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান যেন একেকটি “মৃত্যুর ফাঁদে” পরিণত হয়েছে। ভুল রিপোর্ট ও মিথ্যা পরামর্শের কারণে অনেকে জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে মাধবপুর এলাকার তমাল মজুমদারের পরিচালিত ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং জেসমিন আক্তারের নিউ স্কয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার–এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণেই এই অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এলেও মালিকপক্ষ তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়; কিছুদিন পর আবার নতুন নামে ও সাইনবোর্ডে শুরু হয় একই অবৈধ ব্যবসা।
এছাড়া ফেসবুক ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া ডাক্তারের নাম ও পদবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দিয়ে রোগী আকৃষ্ট করছে এসব কেন্দ্র। অনলাইনে ‘বিশেষজ্ঞ পরামর্শ’-এর নামে রোগীদের টেস্টের জন্য নিজেদের সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে, অথচ সেখানে নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিংবা দক্ষ মেডিকেল টিম।
ফলে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ—একদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি, অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়ছে। অনেকে বাধ্য হচ্ছেন জমিজমা বিক্রি করে রাজধানী কিংবা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য ছুটতে।
সম্প্রতি ব্রাহ্মণপাড়া থানার মাধবপুরে অবস্থিত নিউ স্কয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কেন্দ্র করে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমেই এই অনিয়ম রোধ সম্ভব।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭