শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে ঋণের টাকা পরিশোধের পরও তিনটি ফাঁকা চেক, স্বাক্ষরযুক্ত ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প ও জমা রাখা সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোস্যাল এডভান্সমেন্ট থ্রু ইউনিটি (সেতু)-এর মাওনা শাখার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনি নোটিশ দিয়েছেন ভুক্তভোগী হালিমা সুলতানা। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে চেক, স্ট্যাম্প ও সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে ঋণের টাকা পরিশোধের দাবি অস্বীকার করেছেন সংস্থাটির মাওনা শাখার ব্যবস্থাপক সোলাইমান।
আইনজীবী মো. রাশিদুল হাসানের মাধ্যমে গত ৫ অক্টোবর পাঠানো আইনি নোটিশে বলা হয়, হালিমা সুলতানা সেতুর মাওনা শাখার একজন নিয়মিত সদস্য ছিলেন। তাঁর সদস্য কোড ৬৫ এবং সমিতির কোড ১৪৮। তিনি সংস্থাটি থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী ঋণের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি নিয়মিত সঞ্চয়ও জমা দেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।নোটিশের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এককালীন ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৬ টাকা পরিশোধ করেন হালিমা সুলতানা। এ ছাড়া তাঁর সঞ্চয় বাবদ জমা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ১২৩ টাকা। ঋণের টাকা পরিশোধের পর তাঁকে ঋণ পরিশোধের ক্লিয়ারেন্স ও প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয় বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।নোটিশে আরও বলা হয়, ঋণ গ্রহণের সময় জামানত হিসেবে তিনটি ফাঁকা চেক ও ৩০০ টাকার একটি স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা স্ট্যাম্প নেওয়া হয়েছিল। ঋণ পরিশোধের পর এসব কাগজপত্র ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করা হলেও বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তা ফেরত দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে জমা রাখা সঞ্চয়ের টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন হালিমা সুলতানা।নোটিশে পুবালী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের তিনটি চেকের বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে চেক, স্ট্যাম্প ও সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালতে মামলা এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) কাছে অভিযোগ করার কথা জানানো হয়েছে।হালিমা সুলতানা বলেন, ঋণের টাকা পরিশোধের পর সংস্থার কার্যালয় থেকে তাঁকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাঁর জমা রাখা সঞ্চয়ের টাকা ও চেক ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এতে তিনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সেতুর মাওনা শাখার ব্যবস্থাপক সোলাইমান বলেন, ঋণের টাকা পরিশোধের যে দাবি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। মাঠকর্মী টাকা না পেয়েই খাতায় টাকার পরিমাণ লিখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে গ্রাহক আর টাকা দেননি। হালিমা সুলতানার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম রানা তাঁদের সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭