
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকার সাহেদা গোপ গ্রামের স্কুলছাত্রী আমেনা আক্তার (৬) অপহরণের তিন দিনের মধ্যেই উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সফল অভিযানে অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার ভদ্র কাঁচা গ্রাম থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পটভূমি গত ১০ আগস্ট সকাল ৮টায় প্রতিদিনের মতো সাহেদা গোপ বর্ণমালা একাডেমিতে বড় বোনের সাথে যায় আমেনা আক্তার। সকাল ১০টায় স্কুল ছুটি হলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে। এমন সময় একটি অচেনা নম্বর থেকে আমেনার বড় ভাইয়ের মোবাইলে ফোন করে অপহরণকারীরা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
তদন্ত ও অভিযান ১১ আগস্ট আমেনার মা সালমা বেগম বাঙ্গরা বাজার থানায় উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাহিদ হাসানকে।
এসআই নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান সনাক্ত করে ১২ আগস্ট রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বিটঘর ইউনিয়নের ভদ্র কাঁচা গ্রামে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী আব্দুল মতিন ও ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে আব্দুল মতিনের বোনের বাড়ি থেকে আমেনা আক্তারকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা ও প্রাথমিক স্বীকারোক্তি আব্দুল মতিন (পিতা: মৃত শহীদ মিয়া) ও ইমরান (পিতা: আবুল কাসেম) দু’জনই মুরাদনগরের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
আদালতে সোপর্দ ও পরবর্তী ব্যবস্থা ১৩ আগস্ট আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ভিকটিম আমেনা আক্তারকে আদালতের মাধ্যমে মা-বাবার জিম্মায় প্রদান করা হয়। অপহরণে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রতিক্রিয়া ও পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও সফল উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। ওসি মাহফুজুর রহমান, এসআই নাহিদ হাসান এবং অভিযানে অংশ নেওয়া এএসআই আল আমিন (১ ও ২), সাইফুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, রিপন, নারী পুলিশ সদস্য নিপা আক্তার, রিটন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।
অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকার সর্বস্তরের জনতা।
সম্পাদক : শেখ মোঃ শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
যোগাযোগ: ০১৭১১৭৫২৭১৭০ / ১৭১১৩৬৩৭৯৭