
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন সাহিদা আক্তার (৩৩) নামের এক গৃহবধূ ও তার দুই বছরের শিশুকন্যা জুবাইদা।
শুক্রবার ভোরে স্বামীর বাড়ি মৈশামুড়া থেকে বাবার বাড়ি পাঁচৈ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন সাহিদা। পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তিনি। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারেন, গাড়িটি সম্ভবত নির্ধারিত পথের বদলে অন্য দিকে যাচ্ছে। তখন বাবাকে ফোন করেন সাহিদা।ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তিনি শুধু বলেন, ‘আব্বু, সিএনজি আমাকে অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’বাবার সঙ্গে মাত্র ২৬ সেকেন্ড কথা হয়েছিল। এরপরই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।সেই যে মা ও মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সাহিদার বাবা আবুল হোসেন বলেন, মেয়েটি সকালে তার বাড়িতে আসার কথা ছিল। ফোনে কথা বলার সময় মেয়ের কণ্ঠে আতঙ্ক ছিল কি না, তা বোঝার আগেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর পরিবার ও স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাননি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) নিখোঁজের ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে পরিবার।হাজীগঞ্জ থানার ওসি আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, পরিবার লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছে এবং মা ও শিশুকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।নিখোঁজ সাহিদার উচ্চতা আনুমানিক ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ৫০ কেজি। তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুর উত্তর ইউনিয়নের মৈশামুড়া গ্রামের শেখ বাড়ির শফিকুল ইসলামের স্ত্রী।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, একজন মা তার বাবাকে ফোন করে মাত্র ২৬ সেকেন্ডে জানালেন, তাকে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর তার ফোন বন্ধ। সঙ্গে রয়েছে মাত্র দুই বছরের একটি শিশু।
এটি নিছক নিখোঁজের ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ তদন্ত করছে।সাহিদা ও ছোট্ট জুবাইদাকে কেউ দেখে থাকলে বা তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।মা ও শিশুটি যেন নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে আসে, এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।