
ইমরান খাঁন ঢাকা জেলা :
সাভারের আশুলিয়ায় মাদক উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার চুরি ও ঘুষ নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, অনুসন্ধানে তার সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বরং অভিযোগকারী নারীর স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক-সংক্রান্ত মামলা, গ্রেপ্তার ও পুলিশের অভিযানের তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও পূর্বের ঘটনাগুলো পর্যালোচনায় অভিযোগটি পুলিশের অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ জুলাই রাত ১১টার দিকে, আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল এলাকায়, হাজী আলাউদ্দিন স্কুল সংলগ্ন তাদের বাসায়। প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশের এসআই নাফিউল ইসলাম, এএসআই আব্দুস সালাম, কনস্টেবল মো. আইয়ুব আলী, মো. মাহবুব এবং সোর্স মো. আমিনুলসহ কয়েকজন ওই বাসায় অভিযান চালান।অভিযানের বিষয়ে এসআই নাফিউল ইসলামের বক্তব্য, ওই বাড়িতে একজন মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির দল সেখানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযানের সময় ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে তাকে খুঁজে না পেয়ে ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
তবে মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী রুমা আক্তার বন্যা নামে এক নারী অভিযোগ করেন, বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদক না পাওয়ার পর তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা এনে দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।এছাড়া ডিবি সদস্যরা চলে যাওয়ার পর ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে থাকা একটি ব্যাগ থেকে দুইটি স্বর্ণের আংটি ও একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, এবং একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
তবে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অনুসন্ধানে ওই বাড়ির বাসিন্দা এবং অভিযোগকারী নারীর স্বামীর বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা ও পূর্বের পুলিশি অভিযানের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মামলার নথি প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই এলাকায় এর আগেও একাধিকবার মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার তৎপরতার সময় ওই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তোলার ঘটনা আগেও ঘটেছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া মামলার নথি ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী নারীর স্বামী পুলিশের কাছে মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলায় অভিযুক্ত এবং পূর্বে মাদকসহ গ্রেপ্তারও হয়েছেন। ফলে মাদকবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটটি বাদ দিয়ে শুধু স্বর্ণ চুরি ও ঘুষের অভিযোগকে সামনে এনে সংবাদ প্রকাশ করায় প্রকৃত ঘটনা আড়াল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই নাফিউল ইসলাম বলেন, “ওই বাড়িতে একজন মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে জানতে পেরে আমরা অভিযানে যাই। অভিযানে যাওয়ার পর আসামি পালিয়ে যায়। এরপর আমরা তাকে খুঁজে না পেয়ে সেখান থেকে চলে আসি। কিন্তু ওই মহিলা মিথ্যা কথা বলেন যে, তার ঘর থেকে স্বর্ণ এবং টাকা-পয়সা চুরি হয়েছে, যেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।”
তিনি আরও বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুলে অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।এদিকে ঢাকা জেলা ডিবি উত্তরের ওসি সাইদুল ইসলাম ঘটনার বিষয়ে বলেন, অভিযোগটি তিনি শুনেছেন এবং ভুক্তভোগী নারী তার কাছেও এসেছিলেন। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং কোনো পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চুরি, ঘুষ এবং মূল্যবান মালামাল লুটের গুরুতর অভিযোগ করা হলেও অনুসন্ধানে পাওয়া মামলার নথি, পূর্বের মাদকবিরোধী অভিযান এবং স্থানীয়দের বক্তব্য ঘটনাটির ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরছে।