
খাজনা দিতে গিয়ে এমন অভিযোগের মুখোমুখি হলেন এক নারী। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চিৎকার শুরু হলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তহশিলদার, অফিস সহকারী ও এক কথিত দালালকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচকড় গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ৮০ শতক জমির ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ১৯ হাজার ৭২০ টাকা পরিশোধের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে সরকারি খাস দখলে নেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।সোমবার সেই খাজনা পরিশোধ করতে ভূমি অফিসে যান শরিফ উদ্দিনের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার। অভিযোগ, তহশিলদার মাহমুদ হাসান তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেন এবং আরও ১২ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন।
কিন্তু ৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর হাতে দেওয়া রশিদে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ উল্লেখ করা হয় মাত্র ৭৩৮ টাকা।এতেই সন্দেহ হয় সুরাইয়া আক্তারের। তিনি বিষয়টি নিয়ে চিৎকার শুরু করলে ভূমি অফিসে থাকা অন্য সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তহশিলদার মাহমুদ হাসান, অফিস সহকারী শাহজাহান আলী এবং আব্দুর রহিম নামে এক কথিত দালালকে আটক করা হয়। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্যসূত্র আমার দেশতবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সেটি তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।প্রশ্ন হচ্ছে, একজন সাধারণ মানুষ সরকারি খাজনা দিতে গিয়ে যদি নির্ধারিত টাকার চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ দিতে বাধ্য হন এবং তার বিপরীতে সরকারি রশিদে লেখা হয় মাত্র ৭৩৮ টাকা, তাহলে এই ব্যবস্থার জবাবদিহি কোথায়?ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন দালাল, ঘুষ আর হয়রানির শিকার না হন, সেটিই প্রত্যাশা।