1. admin@dailyajkerdurnity.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে মেট্রোরেলে অ”সু”স্থ হয়ে একটু বসার জায়গা চেয়েছিলেন একজন অধ্যাপক। কেউ দেয়নি। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করে মারা গেলেন। আইজিপির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজ আশুলিয়ায় কোটি টাকা চাঁদা দাবী-ফ্যাক্টরী ও জমি দখল-সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিকসহ আহত-২ মিঠামইনে দূর্গা পূজা উপলক্ষে নাটক মঞ্জস্ত ফ্যাক্টরি দখল নিতে গিয়ে আশুলিয়ায় সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, তীব্র নিন্দা গাজীপুরের কাশিমপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে মেঘা ইয়ার্ন ডাইং মিলস লিমিটেডের শ্রমিকদের আন্দোলন ও ভাঙচুর। কাপাসিয়া সিংহশ্রীতে শারদীয় দুর্গোৎসব: ২টি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম বাহাদূর ও অ্যাড. জাকির হোসেন দেবীদ্বারে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ: ‘পদত্যাগ সরকারের শর্ট-টার্ম প্যারাসিটামল থেরাপি’ সিংহশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বাহাদুর সকলের সমর্থন ও দোয়া প্রত্যাশী

নেত্রকোনার বারহাট্টায় আগাম বন্যার আশঙ্কায় ফসল নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে কৃষকদের

আজকের দুর্নীতি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৪৯ বার পঠিত

 

বারহাট্টা(নেত্রকোনা) সংবাদদাতাঃ নেত্রকোনার বারহাট্টায় মাঠ ভরা সোনালি ধান। উপজেলায় এ বছর প্রায় ১৫ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।এবার ফলনও হয়েছে ভালো, তবু এসব এলাকার মানুষের চোখে এখন আর ঘুম নেই। ঘন ঘন বৃষ্টি, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় ঘরে ধান তোলা নিয়ে দিনরাত উৎকণ্ঠায় কাটছে কৃষকদের।

সারা বছরের আশা-ভরসার বোরো ধান মাঠে পেকে দাঁড়িয়ে থাকলেও তা ঘরে তুলতে পারছে না অনেক কৃষক। প্রকৃতির বিরূপ আচরণ আর শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

অন্যদিকে আবহাওয়া বিভাগের তথ্যমতে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আগাম বন্যা হতে পারে। এ কারণে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগ।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় প্রতিদিনই কখনো দিনে, কখনো রাতে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বজ্রপাত হচ্ছে। এতে উপজেলার নিচু জমিতে পানি জমে অনেক ক্ষেতের ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক কখন যে পাহাড়ি ঢল নেমে এসে মুহূর্তেই সব ফসল তলিয়ে দেয়।

এদিকে নিচু জমিতে পানি থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন নিয়ে ধান কাটা দূরুহ হয়ে দাঁড়িয়েছে, অপরদিকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেলেও তারা আবার অতিরিক্ত মজুরি দাবি করছেন। উঁচু জমিতে যেখানে মেশিন যাচ্ছে, সেখানে প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জমির ধান ঘরে তুলতে উভয় সংকটে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বারহাট্টা উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

২৮ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলার ২ হাজার ৭০০ হেক্টার জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। মাঠে ধান ভালো হলেও অতি বৃষ্টিতে কাটতে না পারায় ২০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।শতভাগ জমির ধান কাটতে আরো ১৫ দিন লাগতে পারে।

স্থানীয় কৃষক ইকবাল মিয়া বলেন, ‘এত কষ্ট করে ধান কাটছি, কিন্তু রোদ নেই ধান শুকাতে পারছি না। আবার বাজারেও ধানের দাম নেই।’

বর্তমানে প্রতি মণ ধান প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচের তুলনায় এই দাম খুবই কম। সামনে ধানের সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরাও। তারা বলেন, মিলারদের সীমিত চাহিদা ও বাজার ঝুঁকির কারণে বেশি দামে ধান কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষক আলম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় একটি মাত্র ফসল। মৌসুমের শুরুতেই জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক সব কিছুতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে—এখন ধান কাটার খরচ যোগ করে কোনো হিসাব মিলছে না। তার ওপর আবার ঝড়-বৃষ্টি। কী করব বুঝতে পারছি না।’

বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ জিনিয়া জামান জানান, কৃষকদের দুর্ভোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা নিশ্চিত করা গেলে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর