
জয়নাল আবেদীন যশোরী :
জাতীয় সংসদ ভবনের এমএমপি রুমের শাখা ২ এর স্টোরে, সংরক্ষিত ৯ম তলায় রক্ষিত বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের প্যানেলের কপার বার চুরি। যা গত ০৪.০৯.২০২৫ তারিখে মোঃ শামছুল আলম উপ সহকারী প্রকৌশলী গণপূর্ত ই/এম উপ বিভাগ ১৩, শেরে বাংলা নগর ঢাকা।তিনি স্টোরের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন হেলাল আহমেদকে, উপ সহকারী প্রকৌশলী গণপুর্ত ই/এম শেরে বাংলা নগর ঢাকা ১৩।উপ সহকারী হেলাল আহমেদসহ উক্ত দপ্তরের অনেক কর্মচারীদের সামনে স্টোরে থাকা সম্পূর্ণ মালামাল বুঝিয়া পাইয়া একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। এই স্টোরে গণপুর্ত ই/এম (৭) এর বিভিন্ন প্রকার রিপেয়ারিং কাজ করার পরে যে সব বাড়তি মালামাল থাকে তা ৯ম তলার স্টোর রুমে রাখা হয়। তবে এই মালামালসহ স্টোরের তালা চাবি বুঝে নেন হেলাল আহমেদ, পরে সেই তালা চাবি পালটে নতুন তালাচাবি ক্রয় করেন তিনি। এই স্টোরে পর পর তিনটি তালা খুলে ঢুকতে হয়, স্টোরে আছে সি সি ক্যামেরা। তবে ঘটনার আগে সি সি ক্যামেরা খুলে রেখে এই ঘটনা ঘটায় যার কারণে চোর সনাক্ত করতে পারছে না তদন্ত কমিটি। তবে স্টোর থেকে কপার বার চুরি যেদিন হলো সেই দিন কি জাতীয় সংসদ ভবনের সব সি সি ক্যামেরা বন্ধ ছিলো? এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে। তবে উপ সহকারী হেলাল আহমেদ সেই চাবি নিজের কাছে রক্ষিত রাখতেন যাতে স্টোর সুরক্ষিত থাকে। তাহলে এই স্টোর থেকে কপার চুরি হলো কি ভাবে? তাও
আবার ভি আই পি জোন থেকে।
তাহলে এবার জেনে নেওয়া যাক
সরকারি সম্পদ চুরির আইন কি বলে

সরকারি বা ভিআইপি (VIP) এলাকা থেকে স্ক্র্যাপ মালামাল পুরানো লোহা, যন্ত্রপাতি বা সরকারি সম্পদ চুরি করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।যা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এর শাস্তির বিধান হলো:১,
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860) অনুযায়ী শাস্তি:
সাধারণ চুরির ধারা (৩৭৯): সরকারি সম্পত্তি চুরি হলে, চোরের ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।তবে এই সব আইন তোয়াক্কা না করে গণপুর্ত ই /এম স্টোর থেকে কপার বার চুরি।
কিন্তু এই অকেজো মালামাল থেকে অনেক সময় ভালো কিছু বের করে তা আবার কাজে লাগাতে গোডাউন জাত করে রাখা হয়। কিন্তু স্টোরে রাখা পুরাতন এলটি,এইচটি প্যানেল এবং প্যানেল হতে প্রাপ্ত ১৪০৯টি কপার বার, ৬৬ টি কপার বার টাই বাসবারে ব্যবহারের পর ১৩৪৩টি, কপার বার উপ সহকারী প্রকৌশলী,এম এমপি শাখা ২ এর ততত্ত্বাবধানে স্টোরে রাখা হয়। এদিকে স্টোর অনেক পুরাতন মালামাল সরকারি নিয়ম অনুযায়ী,
সব অকেজো স্ক্রাব মালামাল হিসেবে সার্ভে রিপোর্ট করতে। গত ২১/০১/২০২৬ তারিখ উপসহকারী প্রকৌশলীসহ শাখা ২ এর ইলেকট্রিশিয়ানকে সংগে নিয়ে সার্ভে রিপোর্ট করতে গিয়ে দেখতে পায়, উক্ত স্টোরে ১৩৪৩ কপার বার এর কোনো হদিস নেই । তবে অল্পকিছু মালামাল পড়ে আছে স্টোরের বিভিন্ন যায়গায় ছড়ানো ছিটানো অবস্থায়। তাহলে এই কপার বার বা স্ক্রাব মালামাল গেলো কোথায় তাও আবার ভি আই পি জোন জাতীয় সংসদ ভবনের ৯ম তলা থেকে। এর পর শুরু হয় খোঁজাখুজি। শেরে বাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি, তদন্ত কমিটি গঠন,স্টোরের দায়িত্বে থাকা উপ সহকারী হেলালকে স্টোর থেকে বদলি করে অন্য যায়গায় টান্সফার, নাটক তো নয় চলিতেছে সার্কাস। কোটি টাকার মালামাল সরকারের গচ্চা।
এর আগেও জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতর থেকে কোটি কোটি টাকার মালামাল গায়েব ।
যদি এই ধরনের চুরি
ভবন বা সংরক্ষিত এলাকা থেকে হয় তাহলে ধারা ৩৮০, যদি মালামালটি কোনো সরকারি অফিস, গুদাম বা সংরক্ষিত ভবনের ভেতর থেকে চুরি হয়, তবে তার ধারা ৩৮০ অনুযায়ী শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে। এতে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে।
সরকারি কর্মচারী কর্তৃক চুরি হয় তার ধারা ৩৮১): যদি চুরির সাথে কোনো সরকারি কর্মচারী বা পাহারাদার জড়িত থাকে, তবে দণ্ডবিধির ৩৮১ ধারা অনুযায়ী ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে, এদিকে
মামলার ধরন ও প্রক্রিয়া
স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দায়ের করতে হবে।
অভিযোগ দায়েরকারী: সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান, নিরাপত্তা কর্মকর্তা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মামলা করতে পারেন।পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে
এবং চুরিকৃত মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করবে।
কিন্তু আইন কে বৃদ্ধা আংগুল দেখিয়ে এতো
সিকিউরিটি ভেদ করে চুরি। তাও আবার সংসদ ভবনের ৯ম তলা থেকে এমন প্রশ্ন এখন আইন বিশেষজ্ঞদের। এদিকে নামমাত্র তদন্ত কমিটির তদন্ত চলছেই তো চলবেই এর শুরু আছে শেষ নেই। সংসদ ভবনের ভেতরে যদি গণপুর্তে স্টোর থেকে মালামাল চুরি হয় তাহলে বাহিরের অবস্থা কি? এবং সাধারণ মানুষের অবস্থা তাহলে ভয়াবহ
এই সব অনিয়ম ও চুরি হওয়া মালামালের বিষয় জানতে উপসহকারী হেলাল আহমেদকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে। তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই যার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে তদন্ত কমিটির সদস্য গণপুর্ত ই /এম এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন। প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে, আরও তদন্ত হবে তাতে সে যদি দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তার চাকরি না থাকার সম্ভাবনা বেশি তবে সে দায়িত্বে অবহেলা করছে।