
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় খোলা ড্রেনে পড়ে গিয়ে ফারিয়া তাসনিম জ্যোতি (২৪) নামের এক তরুণী নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল রবিবার (২৮ জুলাই ২০২৫) রাত ৮টার দিকে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ফারিয়া তাসনিম জ্যোতি চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড মসজিদ পাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত ওলিউল্লাহ আহাম্মদ বাবলুর মেয়ে। দুই ভাই – লোটন ও শোভনের বোন জ্যোতি বর্তমানে হোসেন মার্কেট এলাকায় বাস করতেন এবং একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ঘটনার সময় তিনি ওষুধ সরবরাহের কাজে টঙ্গী মেডিকেলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টঙ্গী ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনের রাস্তার পাশে থাকা ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত ছিল। সেখানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কোন স্লাব বসায়নি, এমনকি সতর্কতা মূলক কোন সাইনবোর্ডও ছিল না। অসাবধানতাবশত জ্যোতি ড্রেনের ভেতর পড়ে যান এবং পানির প্রবল স্রোতে নিখোঁজ হয়ে যান।
ঘটনার পরপরই গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়, যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে রাত পেরিয়ে ভোর হলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ তরুণীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, “নগর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এমন ব্যস্ত এলাকায় ড্রেন খোলা রেখে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ফেলা জঘন্য অপরাধ।”
তারা আরও বলেন, “ফারিয়ার জীবনের মূল্য কে দেবে? গাফিলতির দায়ে সিটি কর্পোরেশন এবং ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
দুর্ঘটনার তদন্তে দ্রুত কমিটি গঠন
গাফিলতিতে দায়ী সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
• ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি
• ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি সূত্র জানায়, “আমরা উদ্ধার অভিযানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তবে প্রবল পানির স্রোত এবং ড্রেনের গভীরতা উদ্ধার কাজকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।”
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চলমান রয়েছে। ফারিয়ার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনগণ দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন। অনেকেই ঘটনার স্থানে জড়ো হয়ে সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন।
আপনার এলাকাতেও কি এমন খোলা ড্রেন আছে? সিটি কর্পোরেশনের অবহেলা আপনি কীভাবে দেখছেন? সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিবাদ ছাড়া কি এ ধরনের দুর্ঘটনা বন্ধ সম্ভব?