
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে সায়েমা আক্তার (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের খাইয়ার গ্রামের পূর্বপাড়ায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। মৃত সায়েমা সৌদি প্রবাসী ইয়ার হোসেনের বড় মেয়ে এবং স্থানীয় খাইয়ার নবধারা আদর্শ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
সায়েমার বাবা ইয়ার হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল তার মেয়ে। মধ্যরাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরে অন্ধকার নেমে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সায়েমা চিৎকার দিয়ে উঠে বসে। পাশের কক্ষ থেকে ছুটে এসে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান তার হাতে সাপের কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। মুহূর্তেই সায়েমা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
তড়িঘড়ি করে পরিবারের লোকজন তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সায়েমার মৃত্যুতে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন।
ঘটনার পরপরই ঘরে সাপ থাকার আশঙ্কায় স্থানীয়রা পরিচিত সাপুড়ে ও বেদে সর্দার আলাউদ্দিনকে খবর দেন। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘর তল্লাশি করে একটি বিষধর সাপ ধরে ফেলেন। সাপটি স্থানীয় কেউ কখনো দেখেনি বলেও জানান অনেকে। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগে ঘরের কোনো ফাঁক-ফোকর দিয়ে সাপটি ঢুকে পড়েছিল।
সায়েমার মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, সায়েমা পড়াশোনায় ভীষণ ভালো ছিল এবং সবসময় ভদ্র ও মার্জিত ব্যবহার করত। অল্প বয়সে এমন করুণ মৃত্যুতে গোটা গ্রামে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সাপের উপদ্রব রোধে বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা এবং ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারাও।
এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের বাড়িতে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেউ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার এবং প্রথাগত চিকিৎসা বাদ দিয়ে আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
সায়েমার মৃত্যু শুধুমাত্র একটি পরিবারের শোক নয়—এটি সবার জন্য সতর্কবার্তা। সাপের উপদ্রব রোধে সচেতনতা, ঘরের নিরাপত্তা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই হতে পারে এমন মৃত্যুর করুণ পরিণতি ঠেকানোর প্রধান উপায়।