
বিশেষ প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের গঙ্গানগর এলাকায় নুরুদ্দিন হাওলাদার (৩২) নামে এক ঠিকাদারকে হত্যার অভিযোগে হোসনে আরা(৪৫) নামে একজন সন্দেহভাজন আসামীকে গ্রেফতার করে দুইদিনে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
এদিকে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারে সোনারগাও থানা পুলিশের এসআই আকরামের ভুমিকা রহস্যজনক বলে অভিযোগ করেছেন নিহত নুরুদ্দীনের স্ত্রী, ভাই মিজান রহমানসহ স্বজনেরা । মামলার তদন্তে থাকা সোনারগাও থানা পুলিশের এস আই আকরাম অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেদককে কোন ধরনের তথ্য দিতে অপারগতা জানান এবং উপর মহলের সাথে যোগাযোগ করতে বলে মোবাইলের লাইন কেটে দেন ।
গত (১৭ মে) ভোর ৬টায় দু’দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নিউটাউন আবাসিক এলাকায় ঠিকাদার নুরুদ্দিন হাওলাদার মারা যান।নিহত নুরুদ্দিন নিউটাউন আবাসিক এলাকার সোহেল মিয়ার বাড়ির নিচ তলার ভাড়া বাসায় পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন। তিনি ভোলা জেলার পশ্চিম ইলিশা উপজেলার মালেরহাট গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে।
নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বলেন, প্রায় ২ বছর আগে গঙ্গানগর এলাকার আব্দুর রবের বাড়ির ঠিকাদারি কাজ করেছিল আমার স্বামী। কাজ শেষ করে দেওয়ার পর পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো আরো কাজ করতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিল আব্দুর রব এবং তার দুই ছেলে হৃদয় ও শুভ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত নুরুদ্দিনের ভাই মিজান রহমান বলেন, ঐদিন বিকেল ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে করে আব্দুর রব এবং তার দুই ছেলে হৃদয় ও শুভ এসে আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে সামনের রাস্তায় তর্কাতর্কি করছিল। হঠাৎ হৃদয়ের পকেটে থাকা সুইচ গিয়ার বের ৩টি আঘাত করে। এর একটি বুকের বামপাশে লাগে। আমি ৭ তলা থেকে নেমে আসতে আসতে তারা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৬টায় আমার ভাই মারা যায়। নুরুদ্দিনের বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নিহত নুরুদ্দিনের এক বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান ওসমান হাদীর( শহীদ ওসমান হাদীর নামের সাথে মিল রেখে নামটি রাখেন পিতা নুরুদ্দিন) ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছে পরিবারটি।
নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, ভাই মিজান রহমানসহ স্বজনদের দাবী ঠিকাদার নুরুদ্দীন হাওলাদার হত্যাকান্ডে জড়িত মুল আসামীদের এতদিনে কেন গ্রেফতার করতে পারলো না সোনারগাও থানা পুলিশ তা তদন্ত করাসহ মামলার এজাহারভুক্ত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।