
ইমরান খাঁন ঢাকা জেলা:
রাজধানীর একটি বহুতল ভবনে নির্ধারিত তারিখের পূর্বেই জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে কামাল নামের এক ভাড়াটিয়াকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ভবনের ম্যানেজার শামীমের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ভবনটির নিম্নমানের ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে কথা বলায় অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন ওই বাড়ির প্রায় ১৫০ জন বাসিন্দা।

ঘটনার বিবরণী
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট সময় হওয়ার আগেই ভাড়াটিয়া কামালের কাছে জোরপূর্বক ভাড়া দাবি করেন ম্যানেজার শামীম। কামাল এর প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে শামীম তার গলায় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এই ঘটনার পর তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় কামাল দ্রুত বাসাটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তবে বাসা ছাড়ার পরও রেহাই মিলছে না তার; ভবনের বাড়িওয়ালা মোবারক হোসেন প্রতিনিয়ত কামালকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও জিম্মি ১৫০ বাসিন্দা অনুসন্ধানে জানা গেছে, বহুতল বিশিষ্ট ওই ভবনটিতে বর্তমানে কমপক্ষে ১৫০ জন মানুষ বসবাস করছেন। তবে পুরো বাড়িটি অত্যন্ত নিম্নমানের কনক্রিট ও দুর্বল অবকাঠামো দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।স্থানীয়রা জানান, ম্যানেজার শামীম ও বাড়িওয়ালা মোবারকের ভয়ে তটস্থ থাকেন পুরো ভবনের বাসিন্দারা। ভবনের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী বা কোনো অব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো ভাড়াটিয়া মুখ খুললেই তাকে সপরিবারে উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাড়াটিয়া জানান:
“আমরা এখানে রীতিমতো জিম্মি অবস্থায় আছি। বিল্ডিংয়ের অবস্থা খুবই খারাপ, যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। কিন্তু কিচ্ছু বলার উপায় নেই। কথা বললেই ম্যানেজার শামীম গুন্ডাবাহিনী নিয়ে চড়াও হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি
ভুক্তভোগী কামাল বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ম্যানেজার শামীম ও বাড়িওয়ালা মোবারকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ভালো কোনো সুরাহা মেলেনি।অনুমোদনহীন ভাবে নির্মিত ২ তলা ভবনটি সম্পুর্ণ কলম বিহীন ইটের উপর নির্মান করা হয়েছে।ভবনটির উঠা এবং নামার সিড়িও অনিরাপদ,রেলিং বিহীন ভাবে ঝুকিপূর্ণ সিরি নির্মান করা হয়েছে।ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও ভাড়াটিয়াদের ওপর এমন বর্বর অত্যাচারের ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এবং ভবনটির নিরাপত্তা যাচাই করার জোর দাবি জানিয়েছেন।