
নাসির উদ্দিন হারুনঃ মিঠামইন কিশোরগঞ্জ
বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর মুজাফফরপুর কারাগারে ১৯০৮ সালে ১১ আগস্ট ফাঁসি হয়। তিনি মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । ৬ বছর বয়সে পিতা ত্রৈলোক্যনাথ বসু ও মা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী মারা যান । মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি শিক্ষা লাভ করেন । ১৯০৫ সালে স্বদেশী আন্দোলন ও বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ক্ষুদিরামের মত স্কুলের ছাত্রদেরও প্রভাবিত করে । পড়াশোনা ছেড়ে সত্যেন বসুর নেতৃত্বে এক গুপ্ত সঙে্ যোগ দেন ।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডে উৎপাদিত কাপড় পুড়ানো এবং ইংল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত লবণ বোঝাই করা জাহাজ ডুবানোর কাজে ক্ষুদিরাম অংশগ্রহণ করেন ১৯০৭ সালে শুরুতেই আটগাছায় ডাকের থলি লুট করা এবং নারায়ণগড়ে বঙ্গের ছোটলাটের রেলগাড়িতে বোমা হামলায় তিনি অংশগ্রহণ করেন । দমননীতির কারণে বাঙ্গালীদের ঘৃণার পাত্র কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোডর্কে যুগান্তর বিপ্লবী দল হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ।
ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীর ওপর দায়িত্ব পড়ে । তারা ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল মোজাফফরপুরের ইউরোপীয় ক্লাব কিংসফোর্ডকে আক্রমণ করে কিন্তু কিংসফোর্ডের গাড়ির মতো অন্য একটি গাড়িতে ভুলবশত: বোমা মারলে গাড়ির ভিতর জনৈক ইংরেজ মহিলা ও তার মেয়ে মারা যায় । ক্ষুদিরাম ওয়ানি রেলস্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এবং বোমা নিক্ষেপের সব দায়িত্ব নিজের উপরে নিয়ে নেন। তার সহযোগীদের কথা বা পরিচয় সব তথ্য গোপন রাখেন ।এইভাবে মোজাফফরপুর কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যু হয় । ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মাত্র ১৮ বছর বয়সী এ বীর সাহসী সন্তানকে চিরদিন স্মরণ করবে দুই বাংলার মানুষ।