
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট:
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ১নং তেলিগাতী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে জমিজমা, মৎস্যঘের ও গাছপালা দখল এবং ক্ষতিসাধনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দেলোয়ার মীর, তার ছেলে সুজন মীর এবং তাদের কয়েকজন সহযোগী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন মানুষের জমি ও মৎস্যঘের দখলের চেষ্টা করছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বেও এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি জমিজমা ও মৎস্যঘের নিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তারা অনেক সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাতেন। বর্তমানে তারা পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হয়ে মানুষের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দেলোয়ার মীরের ছেলে সুজন মীর এলাকার বাইরে থেকে কয়েকজন লোককে নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই চক্রের মাধ্যমে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সম্প্রতি এলাকায় দা, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা এবং গাছপালা কাটার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা শুনেছেন। এতে অনেক পরিবার নিজেদের জমি, ঘের ও বসতভিটার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।অভিযোগকারীরা আরও বলেন, জমি ও মৎস্যঘের সংক্রান্ত বিরোধ, মাদক ব্যবসা এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তারা দ্রুত পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং ভূমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দেলোয়ার মীর ও তার ছেলে সুজন মীরের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।স্থানীয়রা বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মোড়েলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো তদন্ত, মাদক ব্যবসার বিষয়টি যাচাই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।