
বিশেষ প্রতিনিধি : জয়নাল আবেদিন যশোরী
২৬ লাখ টাকার কাজ করে ৬৮ লাখ টাকা বিল উত্তোলন,এ যেন পুকুর চুরিকেও হার মানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরা এলজিইডিতে । এলজিইডির আওতাধীন খুলনা বাগেরহাট সাতক্ষীরা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে গাবুরা ইউপি – চাঁদনীমুখা হাট রাস্তাটির উন্নয়ন কাজের সাবকন্ট্রাক্টর রবিউল ইসলাম তার ইনভেস্টের টাকা পেতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও এলজিআরডি সচিব বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ৪১৫০ মিটার দীর্ঘ গাবুরা ইউপি – চাঁদনীমুখা হাট রাস্তাটির চুক্তি মূল্য ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এই উন্নয়ন কাজটির টেন্ডার হয় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে। টেন্ডার প্যাকেজ নং KBS-RID:SAT/UNR-26/23-24,টেন্ডার আই ডি নং৮৬৭৫২৭ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ট্রেড ভক্স ইন্টারন্যাশনাল,মালিক মোঃ আনিসুর রহমান। ফেসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী যুবলীগ নেতা । তার বাড়ি ফরিদপুর হলেও ঢাকায় সেটেল । ঠিকাদার প্রায় ৪% উর্ধদরে কার্যাদেশ পাওয়ার একবছর অতিবাহিত হলেও কাজ শুরু না করায় এলাকার এক ব্যক্তি শ্যামনগর উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সহায়তায় ঠিকাদার আনিসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে ২০২৪ সালের মে মাসে কাজ শুরু করেন।

৫০০ মিটার কাজ সম্পন্ন হলে ঠিকাদার আনিসুর রহমান গোপনে দুই কিস্তিতে ৬৮ লাখ টাকা রানিং বিল উত্তোলন করেন কিন্তু সাব কন্টাক্টরকে কোনো টাকা দেয়নি। আইন আছে সম্পন্ন কাজের বিলের ১০ % কর্তন করে রানিং বিল পরিশোধ করতে হয় কিন্তু ঠিকাদার আনিসুর রহমান তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান ও উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন যোগসাজসে ঠিকাদারের নিকট থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে পাওনা বিলের তিনগুন বিল প্রদান করেন। সাবকন্ট্রাক্টরকে কোনো টাকা না দেওয়ায় তিনি কাজ ছেড়ে দেন। দীর্ঘ দিন কাজটি পড়ে থাকায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে স্থানীয় রবিউল ইসলাম কে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন পূর্বের তথ্য গোপন করে তাকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং বলেন কাজটি করলে ভাল লাভ হবে , আরো বলেন ৩০/৪০ লাখ টাকার কাজ করলে রানিং বিল দিবে তাতে সহজে কাজটি শেষ করতে পারবে। রবিউল জাকির হোসেনের উপর ভরসা করে কাজ করতে রাজি হয়। জাকির হোসেন ঠিকাদার আনিসুর রহমানকে এনে শ্যামনগর এলজিইডি অফিসে বসে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করে কাজ শুরু করেন। ঠিকাদার তার সাথে ফ্রড করে টেন্ডার চুক্তির নির্ধারিত ব্যাংকের চেক না দিয়ে এন আর বি সি ব্যাংকের কয়েকটি চেকে স্বাক্ষর করে দেন। সাবকন্ট্রাক্টর রবিউস প্রায় ৬০ লাখ টাকার কাজ করে রানিং বিলের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনকে চাপ দিলে তিনি বলেন কাজ শেষ না হলে বিল দিবেন না। অনুসন্ধানে দেখা যায় রবিউল ইসলামের ৬০ লাখ টাকার কাজ করায় এলজিইডি অফিস অতিরিক্ত বিল প্রদানের দায় থেকে মুক্তি পেল। উপজেলা সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায় প্রকৌশলী জাকির হোসেন ও নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান অন্যত্র বদলি হয়ে যায়। এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায় ঠিকাদার আনিসুর রহমান অসুস্থতার ভান করে আর কাজ করতে পারবেন না মর্মে আবেদন করেন এবং জরিমানা কর্তন পূর্বক বকেয়া বিল পরিশোধের আবেদন করেন। ঠিকাদার আনিসুর রহমান একটাকাও ইনভেস্ট না করে ৬৮ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়ে যায়। তার লাইসেন্স কালো তালিকা থেকে বাঁচাতে বাহানা শুরু করছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় অভিযোগ কারি রবিউল ইসলাম তার ইনভেস্টের ৬০ লাখ টাকা ফেরত পেতে মুল ঠিকাদার আনিসুর রহমানে ট্রেড ভক্স ইন্টারন্যাশনাল এর নামে অন্য কাজের জামানত আটকে রেখে তার টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও এলজিআরডি সচিবের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় সাতক্ষীরার বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ঠিকাদার আনিসুর রহমানের জামানতের টাকাসহ আলোচিত রাস্তার টেন্ডার বাতিল ও জরিমানা কর্তন করে ট্রেড ভক্স ইন্টারন্যাশনাল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে অভিযোগ থেকে বাঁচাতে তৎপর রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই সব অনিয়ম দূর্নীতি বিষয় জানতে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী, বর্তমান পি ডি কামরুল জামানের মোবাইল ফোন যোগাযোগ করলে, তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই যার কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি