
টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পানি আনতে গিয়ে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাপড়ুয়া শিশুকে ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাকির হোসেন জাকারিয়া শেখকে (৫৮) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তারাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার জাকির হোসেন পাটগাতি সরদারপাড়া এলাকার মৃত বারিক শেখের ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় চর গোপালপুর সবুরোননেছা কওমিয়া মহিলা মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে বাড়ি থেকে পানি আনতে বের হয় ওই শিশু। এ সময় অভিযুক্ত জাকির হোসেন তাকে কলা খাওয়ানোর কথা বলে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যান। ভেতরে নিয়ে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।
এদিকে দীর্ঘ সময় মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে জাকিরের ঘরের ভেতর থেকে মেয়ের চিৎকার শুনতে পান তিনি।ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, “মেয়ের চিৎকার শুনে আমি দৌড়ে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিই। তখন জাকির হোসেন আমার মেয়েকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে আবার দরজা বন্ধ করে দেয়।”
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির মামা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ভেতর থেকে বন্ধ থাকা ঘরের দরজা খুলে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।অভিযান পরিচালনাকারী টুঙ্গিপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম জানান, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। আমরা দরজা খুলিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি।”
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণচেষ্টা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।এদিকে এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে যে পৈশাচিক চেষ্টার করা হয়েছে, আমরা প্রশাসনের কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।