
মোঃ এনামুল হক আবির
ঢাকা-১৯ আসনের আওতাভুক্ত সাভার ও আশুলিয়া—রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় বিএনপির দুর্দিনে রাজপথে সাহসিকতার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেওয়ান রকি। দলের প্রতি তার দীর্ঘ দিনের ত্যাগ ও অবিচল আনুগত্য আজ আশুলিয়া বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। তারা মনে করেন, দলের এই আত্মত্যাগী সৈনিকের যথাযথ মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি।
দেওয়ান রকির রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে ধামরাই সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (১৯৯৫), সাভার উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক (১৯৯৭), আশুলিয়া থানা যুবদলের সভাপতি (২০১৬) এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে ঢাকা জেলা যুবদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনের সময় যখন অধিকাংশ নেতাকর্মী নিরব বা আত্মগোপনে ছিলেন, তখনও দেওয়ান রকি রাজপথে থেকে দলীয় কর্মীদের পাশে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। বহুবার কারাবরণ করেছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। এসব কারণে তিনি আজ আর্থিকভাবেও বিপর্যস্ত, কিন্তু তবুও দল ছাড়েননি।
কুরগাওয়ের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ি হাবিবুর রহমান বলেন, দেওয়ান রকিকে আমরা কিশোর বয়স থেকে দেখে আসছি তিনি সততা ও ন্যায় পরায়ন একজন মিষ্টভাষী মানুষ, তিনি মাঠ পর্যায়ে বিএনপির জন্য যে ত্যাগ করছেন তা তুলোনাহীন।
এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী বলেন, “দেওয়ান রকি ভাই আমাদের জন্য রক্ত ঢাল হয়েছেন। তার মতো ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়বে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও দেওয়ান রকি একজন মানবিক ও সমাজসেবী মানুষ হিসেবেও এলাকায় সুপরিচিত। তিনি নিজের অর্থায়নে এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, মন্দিরসহ গরিব-দুস্থদের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দেওয়ান রকি নিজেই জানান, “আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী বলেই দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমি ও আমার সহযোদ্ধারা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, “এখন সময় এসেছে ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে দলের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার। সকল নেতাকর্মীদের প্রতি আমার আহ্বান, আসুন আমরা একযোগে ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অংশগ্রহণ করি।
সাভার ও আশুলিয়ার সচেতন মহল মনে করছেন, দলের দুর্দিনে যারা ঝুঁকি নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, দেওয়ান রকির মতো তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করলে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে নেতিবাচক বার্তা যাবে, যা দলের ভবিষ্যতের জন্য শুভ হতে পারে না।