1. admin@dailyajkerdurnity.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে মেট্রোরেলে অ”সু”স্থ হয়ে একটু বসার জায়গা চেয়েছিলেন একজন অধ্যাপক। কেউ দেয়নি। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করে মারা গেলেন। আইজিপির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজ আশুলিয়ায় কোটি টাকা চাঁদা দাবী-ফ্যাক্টরী ও জমি দখল-সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিকসহ আহত-২ মিঠামইনে দূর্গা পূজা উপলক্ষে নাটক মঞ্জস্ত ফ্যাক্টরি দখল নিতে গিয়ে আশুলিয়ায় সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, তীব্র নিন্দা গাজীপুরের কাশিমপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে মেঘা ইয়ার্ন ডাইং মিলস লিমিটেডের শ্রমিকদের আন্দোলন ও ভাঙচুর। কাপাসিয়া সিংহশ্রীতে শারদীয় দুর্গোৎসব: ২টি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম বাহাদূর ও অ্যাড. জাকির হোসেন দেবীদ্বারে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ: ‘পদত্যাগ সরকারের শর্ট-টার্ম প্যারাসিটামল থেরাপি’ সিংহশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বাহাদুর সকলের সমর্থন ও দোয়া প্রত্যাশী

এক অসম সাহসী মুক্তিযোদ্ধা শহীদ সিরাজ বীর বিক্রম

আজকের দুর্নীতি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৫ বার পঠিত

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃনাসির উদ্দিন হারুন

১৯৭১সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যখন সর্বস্তরের বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ,তখন ভাটি এলাকার এক সূর্যসন্তান দেশ প্রেমিক মোঃ সিরাজুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজে সেসময়কার চতুর্থ বর্ষে কলা অনুষদের ছাত্র এবং ভিপি প্রার্থী ছিলেন তিনি। ছাত্র রাজনীতিতে তিনি বাম রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

ইটনা থানার ছিলনি গ্রামে মোহাম্মদ মুক্তোল হোসেন এর পুত্র সিরাজুল ইসলাম ভারতের আসাম রাজ্যের ইকো আনে পঞ্চম ব্যাচে মে মাসথেকে ৩২ দিন প্রশিক্ষণ শেষ করে মেজর মুসলেউদ্দিন এর অধীনে সেক্টর নং ৫এ যোগদান করেন। তিনি ছিলেন সহকারী কমান্ডার , তদানীন্তন সুনামগঞ্জ মহকুমায় গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দর সাচনা বাজার কে শত্রু মুক্ত করার জন্য তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখানকার জল কলস ও পাগলা নামক দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ তিনি উড়িয়ে দেন। তিনি ব্রিজের কাছে ধানক্ষেতে শ্রমিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে ২০ শে মে ডিনামাইট এর সাহায্যে ব্রিজ দুটি ধ্বংস করেন ।তখন সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । সাচনা বাজারে সেসময় পাকবাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল এবার সাচনা অভিযানের পালা শ্রাবণের আকাশে কালো মেঘে আচ্ছাদিত। অত্যাধুনিক অস্ত্র সজ্জিত পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে এ সাহসী যুবক তার বাহিনী নিয়ে আক্রমণ চালায়। সহযোগীরা কমান্ডার সিরাজের শপথ বাক্য উচ্চারণ করেন “মন্ত্রের সাধন না হয় শরীর পতন'”। শুরু হলো এক ভীষণ যুদ্ধ ।বিভীষিকাময় মুহুর্মুহু গর্জনে প্রকম্পিত হতে লাগলো সাচনার মাটি।দুঃসাহসিক সিরাজ এডভান্স এডভান্স বলে চিৎকার করে মাত্র ১০০ গজের শত্রু শিবিরের দূরত্বে এসে পড়ল। তাদের প্রবল আক্রমণে ৩৬জন পাকসেনা নিহত হয়। যখন পাকবাহিনীর নিশ্চিত পরাজয়, সিরাজ হঠাৎ জয় বাংলা বলে উল্লাসে দাঁড়িয়ে পড়লে ,পলায়নরত পাকসেনাদের একটি বুলেট তার চোখে এসে লাগলো এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। তার চিকিৎসার জন্য মিত্র বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার সীমান্তের নিকট টেকেরঘাটে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সামরিক মর্যাদায় এ মৃত্যুঞ্জয়ী কে সমাহিত করা হয়। তার সমাধির উপর নির্মাণ করা হয় এক সুদৃশ্য স্মৃতিসৌধ। বঙ্গবন্ধু সরকার শহীদ সিরাজকে অসামান্য বীরত্বের জন্য বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করেন। এবং সাচনার নামকরণ করা হয় সিরাজনগর। এ দেশ প্রেমিক দেশের জন্য যুদ্ধ করেও দেশের স্বাধীনতা দেখে যেতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বাঙালির সাহসিকতা ও বীরত্বের ইতিহাস, দেশের প্রতি সুমহান ভালোবাসার ইতিহাস জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর