
পালিয়ে যাওয়া মেয়ের প্রতি বাবার চিঠি 😢
মা’রে,শুরুটা কিভাবে করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
যেদিন,তুই তোর মায়ের অস্তিত্ব ছেড়ে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলি
সেদিন,থেকে তোকে মা বলে ডাকতে শুরু করলাম। তোকে
মা,ডাকতে গিয়ে নিজের মা হারানোর ব্যথা ভুলেই
গিয়েছিলাম।তোর মাকেও কোনদিন মা ছাড়া অন্য নামে ডাকতে,শুনিনি বিদ্যালয়ে প্রথম দিন শিক্ষক তোর নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। তোকে মা বলে ডাকতে ডাকতে তোর
ডাক,নামটাও ভুলে গিয়েছিলাম। আমি তোর নাম বলতে না
পারায় সবাই আমাকে নিয়ে হাসতে ছিলো। তাই চিঠির উপরে তোর নামের জায়গায় মা লিখেছি। হঠাৎ করে
তুই,এভাবে চলে যাবি আমি তা বুঝতেই পারিনি।ছেলেটা যেদিন বাইরে ব্যাগ হাতে তোর জন্য অপেক্ষা করছিল কখন তুই দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে আসবি?
আমি তখন ভেতরে বসে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা
করছিলাম৷ আর কতটা ভালবাসতে পারলে তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি না। তুই ঘরে বসে ভাবছিলি আজ যেতে না
পারলে ছেলেটার কাছে ছোট হয়ে যাবি। আর আমি
ভাবছিলাম তুই চলে গেলে সমস্ত পিতৃজাতির কাছে কি করে মুখ দেখাবো?জানিস মা, তুই তোর তিন বছরের ভালবাসা খুঁজে পেয়েছিস। কিন্তু আমার জীবন থেকে বিশ বছরের
ভালবাসা হারিয়ে গেছে। মা’রে প্রত্যেকটা বাবা জানে রক্ত পানি করে গড়ে তোলা মেয়েটা একদিন অন্যের ঘরে চলে যাবে। তারপরও একটুও কৃপণতা থাকেনা৷ বাবাদের ভেতরে। বাবাদের ভালবাসা শামুকের খোলসের মতো
মা,বাহিরটা শক্ত হলেও ভেতরটা খুব নরম হয়ে থাকে।
বাবারা সন্তানদের কতোটা ভালবাসে তা বোঝাতে
পারেনা,তবে অনেকটা ভালবাসতে পারে। জানি মা, আমার
লেখাগুলো পড়ে তোর খারাপ লাগতে পারে। কি
করবো৷ বল? তোরা তো যৌবনে পা রাখার পর চোখ, নাক,
কান সবকিছুর প্রতি বিবেচনা করে প্রেম করিস। কিন্তু
যেদিন জানতে পারলাম তুই তোর মায়ের গর্ভে অবস্থান
করছিস সেদিন বুঝতে পারিনি তুই কালো না ফর্সা হবি,
ন্যাংড়া না বোবা হবি,কোন কিছুর অপেক্ষা না করেই তোর
প্রেমে পরেছিলাম তাই এতকিছু লিখলাম।
আমি জানি মা তোদের সব সন্তানদের একটা প্রশ্ন
বাবারা কেন তাদের ভালো লাগা টাকে সহজে মানতে চায়
না?উত্তরটা তোর ঘাড়ে তোলা থাকলো,তুই যেদিন মা হবি
সেদিন নিজে নিজে উত্তরটা পেয়ে যাবি। তোরা যখন
একটা ছেলের হাত ধরে পালিয়ে যাস তখন ওই ছেলে ছাড়া
জীবনে কারও প্রয়োজন বোধ করিস না। কিন্তু একটা বাবা
বোঝে তার জীবনে নিজের মেয়েটার কতটা প্রয়োজন।
যেদিন তোর নানুর কাছ থেকে তোর মাকে গ্রহন
করেছিলাম সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে,যদি মেয়ে হয় তাহলে, নিজের মেয়েটাকে তার স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে কন্যা দানের দায়িত্ব থেকে নিজেকে হালকা করবো। তাই
তোর প্রতি এত অভিমান। মা’রে বাবার উপর রাগ করিসনা।
তোরা যদি অল্প দিনের ভালবাসার জন্য ঘর ছেড়ে৷ পালাতে
পারিস, তবে আমরা বিশ বছরের ভালবাসার জন্য বেপরোয়া হবো না কেন? বাবারা মেয়ে সন্তানের জন্মের পর
চিন্তা করতে থাকে নিজের মেয়েটাকে সুপাত্রের হাতে
তুলে দিতে পারবে তো?আর যৌবনে পা রাখার পর চিন্তা
করে কোনো প্রতারনার ফাঁদে পরে পালিয়ে যাবে না তো?
তাই মেয়েদের প্রতি প্রত্যেকটা বাবার একটা নজরদারি।
যদি মন৷ কাঁদে চলে আসিস বুক পেতে দেবো। হয়ত তোর মায়ের মতো তোকে পেটে ধরিনি, তবে পিঠে ধরার যন্ত্রণাটা
সহ্য৷ করতে পারছিনা।
ইতি,তোর জন্মদাতা “পিতা” 😭