1. admin@dailyajkerdurnity.com : admin :
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ডিবির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চুরি ও ঘুষের মিথ্যা অভিযোগ; অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন চিত্র এক আলোকিত জনপ্রতিনিধি-গোপদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শরফুদ্দীন ভূঁইয়া সবুজ ফিরে পেলো আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স কিশোরগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, আহত ১ সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী মায়ের দান করা স্কুলে সভাপতি নির্বাচিত ছেলে খায়রুল আলম খান,পিএসসি বৃত্তিতে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ উত্তর গোপদীঘি সপ্রাবি গোপদিঘীর সেই সন্ধ্যা –কবি খাইরুল আলম খান উদ্ধার অভিযানে গিয়ে নিজের সন্তানের লাশ পেলেন পুলিশ সদস্য যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ

গণপূর্ত কারখানা বিভাগ দূর্নীতির স্বর্গ রাজ্য :পর্ব ১

আজকের দুর্নীতি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৪ বার পঠিত

জয়নাল আবেদীন যশোরী :

প্রকৌশলী ইউসুফের বিরুদ্ধে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসাসহ নানা মূখী দুর্নীতির অভিযোগ।

লুটপাটে জর্জরিত গণপূর্ত কারখানা বিভাগ

 নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ। গণপূর্ত অধিদপ্তরে তিনি দুর্নীতি আর অদম্য লুটপাটের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তার লুটপাটের মডেলকে অনেক নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীরা অনুসরণ-অনুকরণ করে থাকেন। তিনি প্রায় ৫ বছর ছিলেন গণপূর্ত ই/এম কারখানা বিভাগের দায়িত্বে। ভূয়া বিল-ভাউচারের পাশাপাশি নাজমা এন্টার প্রাইজ সহ আরো একটি ব্যবসায়িক ফার্মের ব্যানারে গত ৫ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে থোক বরাদ্দ ডিপোজিট ওয়ার্ক ও স্বাস্থ্যখাতের লাভজনক কাজগুলোতে পরোক্ষ ঠিকাদারী ব্যবসাসহ একচেটিয়া পার্সেন্টেজ বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন অর্ধশত কোটি টাকা। গত ৩১ জুলাই অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর এক আদেশে তাকে বদলী করা হয়। তবে ডিভিশনটিকে লুটপাটের ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে বছরের পর বছর তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৌশলী ইউসুফ ডিভিশনটিতে থাকতে লুটপাটের সুবিধার্থে উন্নয়ন প্রকল্পের কোন কোন কাজ ওটিএম না করে এলটিএম পদ্ধতিতে কাছের প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিয়েছেন। মোটা অংকের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে ২০২১-২২

অর্থবছরে ৯৯৮৩৬৩৮.২২১ টাকা চুক্তিমূল্য

সোবাহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এর ফোর্স ভেন্টিলেশন সিস্টেম সরবরাহ স্থাপন টেস্টিং কমিশনিং কাজটি এলটিএম পদ্ধতিতে হোমল্যান্ড এজেন্সী নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিয়েছেন। এই প্রকল্পে ফায়ার প্রোটেকশন ও এলার্মিং সিস্টেম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা স্থাপণ, এলইডি সাইনবোর্ড পিএবিএক্স ইন্টারকম সিস্টেম পিএ কনফারেন্স সিস্টেম, ডিজিটাল কারপারর্কিং কাজগুলো নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রত্যাশী সংস্থা। একইভাবে এনবিআর ও বিটিআরসি প্রকল্পের সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম লিফট গেট লাইট, গার্ডেন লাইট, বাউন্ডারী লাইট, ব্র্যাকেট লাইট, এয়ারকুলার, সাবস্টেশন, সেন্ট্রাল এসি, ভি আর এফ সিস্টেম, মটরাইজড ও মডুলেটিং বাল্ব, সোলার প্যানেল সিস্টেম, পাম্প মটর সেট, সার্জ প্রটেকশন ডিভাইস, জেনারেটর, ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল ইলেট্রিফিকেশন, এইচটি এলটি লাইন, সাবমেইন ক্যাবল, ডিজিটাল এলইডি সাইনবোর্ড ও ডিসপ্লে সিস্টেম, নতুনভাবে গঠিত ই-ট্যাক্স ম্যনেজমেন্ট ইউনিটের কম্পিউটার ও অন্যান্য অফিস ষড়ঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপণ কাজসহ বিভিন্ন ধরণের কাজে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করে ইউসুফ। আসলে এর খুঁটির জোর কোথায়? 

বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক কাজগুলোতে সিডিউল বহির্ভূত ডিজাইন ও নকশার ব্যতয় ঘটিয়ে নিম্নমাণের কাজ করিয়ে বড় অংকের সরকারি বরাদ্দ লোপাট করেছেন। বিশেষ করে এনবিআর ও বিটিআরসি ভবনের সোলার প্যানেল উদ্বোধনের পর পরই অকার্যকর হয়ে যায় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন সেন্ট্রাল এসি ও লিফট এর কাজে নিম্নমাণের চাইনিজ যন্ত্রাংশ ব্যবহার করার কারণে উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিনিয়ত সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে ওই দুটি ভবনের সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে।

এছাড়াও জাতীয় বিজ্ঞান যাদুগর, পিএসসি, আবহাওয়া অধিদপ্তর, ন্যাশনাল আর্কাইভ ও লাইব্রেরী ভবন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা এস্টক এক্সচেঞ্জ, ইপিবি ভবন, এসএমআরসি, মানিক মিয়া এভিনিউ এর ন্যাম ভবন, জাতীয় মানসিক হাসপাতাল, টিবি হাসপাতাল পঙ্গু হ্মপাতাল, শিশু হাসপাতাল, কিডনী হাসপাতাল, পাসপোর্ট, এনআইএলজি, আগারগাঁও ও তালতলা স্টাফ কোয়ার্টার, সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনার বৈদ্যুতিক নির্মাণ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজে গত ৫ বছরে লুটপাটের সুনামি চালিয়েছে প্রকৌশলী ইউসুফ।

 নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ চাকরি নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের কোটায় বিগত সরকারের আমলে। নিজেকে পরিচয় দিতেন আওয়ামী পরিবারের সদস্য। এখন দেন একজন সাবেক শিবির ক্যাডার হিসেবে। আ’লীগের সময়ে সর্বমহলে নিজেকে পরিচয় দিতেন একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে হিসেবে। স্বৈরাচার সরকারের সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও সচিবালয়ে এসডিই হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থেকে লুটপাটে হাত পাকিয়েছেন তিনি। তার সহকর্মীরা বলে থাকেন আসলে তিনি কোন দলের নয়, চরম সুবিধাবাদী। সচিবালয়ে দায়িত্বে থাকতে তিনি একজন শ্রমিককে গাড়ী চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছেন। সে বিষয়ে শাহবাগ থানায় ওই সময়ে মামলা হলেও বড় অংকের টাকায় দফারফা করেন এই প্রকৌশলী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশলী ইউসুফের আরেক সহকর্মী জানায়, কখনো তিনি পীরসাব হুজুরের খানকার টাকা সাপ্লায়ার, কখনো সাবেক ফ্যাসিবাদী মন্ত্রীর খাটের সঙ্গীর সাপ্লাইয়ার, আবার কখনো তিনি রঙ্গিন বোতলের বন্দোবস্তকারী ছিলেন বিগত বছরগুলোতে। এ রকম অসংখ্য গুণাবলীতে গুণান্বিত ইএম কারখানা বিভাগের এই সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ 

 তার এ ধরণের বিতর্কিত কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ 

আরো অভিযোগ রয়েছে, ডিভিশনটিতে থাকতে তিনি অফিসে বসতেন না। বাসা বিসিএফআইসিসি পিএসসি ইএম জোন অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে বসে ফাইলপত্র স্বাক্ষর করতেন এই প্রকৌশলী। এটি ছিলো তার বেপরোয়া কমিশন বাণিজ্যের কৌশল। উন্নয়নমূল প্রকল্পের কাজে ৫% ও এপিপির কাজে ১৫% থেকে ২০% টাকা আদায়সহ ঠিকাদারের সিকিউরিটি থেকেও পার্সেন্টেজ আদায় করতেন এই মহাঘুষখোর দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী। ইতোপূর্বে একজন ঠিকাদার পাওনা আদায়ে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দাখিল করেছিল। যা গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে উঠে। এর পর তড়িঘড়ি করে উক্ত ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করেছিলেন তিনি।

শুধু তাই নয়, অবৈধ অর্থের জোরে কারণে-অকারণে সুযোগ পেলেই বিদেশ ট্যুরের নামে প্রমোদ ভ্রমনের নেশায় ছিলেন প্রকৌশলী ইউসুফ। বৈধ/অবৈধভাবে বছরে ২/৩বার ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করতেন তিনি।

 কখনো কখনো কথিত বান্দবী নিয়ে ট্যুরে থাকতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

এবিষয় জানতে মুঠো ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও পাওয়া যাইনি প্রকৌশলী ইউসুফ কে ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর