
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার লাড়ুচোঁ গ্রামে অবস্থিত লাড়ুচোঁ পশ্চিমপাড়া নূরানীয়া হাফেজিয়া এতিমখানা-এর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া এতিমের তালিকা দেখিয়ে বছরের পর বছর লাখো টাকা আত্মসাৎ করছেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি দুইজন এতিম বা অসহায় শিশুর বিপরীতে একজনের জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা করে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ২২ জন এতিম শিক্ষার্থীর নামে নিয়মিত টাকা উত্তোলন করছে। নিয়ম অনুসারে সেখানে অন্তত ৪৪ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী আছে মাত্র ১৫ জন।
শিক্ষার্থীর সংখ্যাবৈষম্য ও ভুয়া তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত শিক্ষকরা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এমনকি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মিজানুর রহমানও সঠিক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। তিনি শুধু বলেন, “অনেক কষ্টে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন এটি পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছি। শিক্ষকদের বেতন, খাওয়াদাওয়া ও বিদ্যুৎ বিল আমাকে পরিশোধ করতে হয়।” তবে এতিমদের নামে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি অর্থ অন্য খাতে খরচ করার নিয়ম আছে কিনা—এমন প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাব তিনি দিতে পারেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত এতিম ও অসহায় শিশুদের অধিকার হরণ করে একটি প্রভাবশালী চক্র এভাবে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এলাকাবাসী বিষয়টিকে ‘পুকুর চুরি’র সঙ্গে তুলনা করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনায় তারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।