
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিখোঁজ হওয়ার এক মাস চার দিন পর করিম ভূঁইয়া (৪৫) নামে এক কৃষকের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নে অবস্থিত তার শ্বশুরবাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেন,এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত করিম ভূঁইয়া উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের মন্ত্রীপুল এলাকার মৃত কাসেম ভূঁইয়ার ছেলে।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট করিম ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা সৈয়দ গেছুদারাজ (রাঃ)মাজার শরীফ খরমপুর যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।এর তিন দিন পর, ১৬ আগস্ট, তার বড় ভাই আমির হোসেন দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।
করিম ভূঁইয়াকে তার শ্বশুরবাড়িতে খুঁজলেই পাওয়া যাবে এই তথ্যের ভিত্তিতে আমির হোসেন দেবিদ্ধার থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে। পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের নিয়ে রসুলপুর গ্রামে করিমের শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে বাড়ির নির্মাণাধীন একটি সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তার হাত-পা বাঁধা গলিত লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে এবং এর জন্য করিমের স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালকদের দায়ী করেছে। নিহতের বড় ভাই আমির হোসেন অভিযোগ করেন, তার ভাইয়ের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত এবং একবার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলাও করেছিলেন। তিনি বলেন করিম ভূঁইয়া ছিলেন একজন সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ। করিম কে খুজা খুঁজি করা নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করা এইসব ছিল তাদের লোক দেখানো নাটক।
করিমের দুই ছেলে তানজিদ (২২) ও তৌহিদ (২১) প্রায়ই মায়ের পক্ষ নিয়ে বাবাকে মারধর করত।নিখোঁজ হওয়ার আগের দিনও করিমকে তার স্ত্রী ও ছেলেরা লোহার রড ও কাঠের রোল দিয়ে মেরে আহত করে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানা যায় পরদিন তার শ্যালক ও সম্বন্ধীরা তাকে মন্ত্রিপুল বাসস্ট্যান্ড থেকে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়,,এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।আমির হোসেনের দাবি, মাদকাসক্ত ছেলেরা সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য বাবাকে চাপ দিচ্ছিল সম্পত্তি লিখে না দেওয়াই স্ত্রী সন্তানরা মিলে তাকে হত্যা করে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় করিম ভূঁইয়ার স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের একাধিক পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল যা নিয়ে সংসারে অশান্তি ছিল। জমি বিক্রি করে ছেলেদের বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে করিমের সঙ্গে তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরোধ ছিল।নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর রাতে প্রতিবেশীরা করিমের এক শ্যালককে তার বোনের বাড়ি থেকে বস্তাভর্তি কিছু একটা সরিয়ে নিতে দেখেছিলেন বলে জানা যায়। পরকীয়ার জের ও সম্পত্তির লোভে স্ত্রী সন্তানদের সুপরিকল্পিতভাবে করিম ভূঁইয়া কে হত্যা করেছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক এবং পারিবারিক কলহ ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য করিম ভূঁইয়ার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার, ও তার দুই ছেলে তানজিদ ও তৌহিদ এবং দুই শ্যালক মোজাম্মেল হক ও ইসরাফিলকে আটক , এই বিষয়ে প্রাথমিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানান দেবিদ্দার থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক এস আই মতিন ।লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে বৃহস্পতিবার বাদ এশা জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।