1. admin@dailyajkerdurnity.com : admin :
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ডিবির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চুরি ও ঘুষের মিথ্যা অভিযোগ; অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন চিত্র এক আলোকিত জনপ্রতিনিধি-গোপদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শরফুদ্দীন ভূঁইয়া সবুজ ফিরে পেলো আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স কিশোরগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, আহত ১ সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী মায়ের দান করা স্কুলে সভাপতি নির্বাচিত ছেলে খায়রুল আলম খান,পিএসসি বৃত্তিতে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ উত্তর গোপদীঘি সপ্রাবি গোপদিঘীর সেই সন্ধ্যা –কবি খাইরুল আলম খান উদ্ধার অভিযানে গিয়ে নিজের সন্তানের লাশ পেলেন পুলিশ সদস্য যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ

গণপূর্তের প্রকল্প যেখানে দূর্নীতিবাজ এসডিই মালিক খসরু সেখানে

আজকের দুর্নীতি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫১৯ বার পঠিত

 

জয়নাল আবেদীন যশোরী…

গণপূর্তের অধীনে যেখানেই বড় প্রকল্প আছে সেখানেই পোষ্টিং নেন গণপূর্ত উপবিভাগী প্রকৌশলী (এসডিই) মালিক খসরু। তিনি বর্তমানে গণপূর্ত ই/এম ৩নং সার্কেলের অধীন ৭নং ডিভিশনের ই/এম ১৪নং সাবডিভিশনের দায়িত্বে আছেন। সাবডিভিশনটির অধীনে বর্তমানে কয়েক হাজার কোটি টাকার বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।আর সেই কারণে উপর মহল ম্যানেজ করে খসরু গেছেন বদলী হয়ে, এভাবে চাকরি জীবনের পুরোটা সময় ঢাকার বিভিন্ন ডিভিশনে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গুলোর দায়িত্বে থেকে নির্মাণ মেরামত রক্ষণা বেক্ষণ কাজে হরিলুটের আশ্রয় নিয়ে নামে-বেনামে অঢেল সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন মালে খসরু,তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মালিক খসরু চাকরি জীবনের বেশীরভাগ সময়ে ঘুরেফিরে ঢাকাতেই আছেন। মাঝেমধ্যে ঢাকার বাইরে বদলী হলেও ২মাস কিংবা ৫/৬মাসের ব্যবধানে পুনরায় ঢাকায় বীরদর্পে ফিরে উদ্ধার করেন লুটপাটের তীর্থভূমি। স্বৈরাচার লীগ সরকারের সময়ে প্রথমদিকে গণপূর্ত কাঠের কারখানায় প্রায় ৫বছর, পরবর্তীতে ই/এম ৫নং ডিভিশনের অধীন তেজগাঁও সেকশনে আরো প্রায় ৩বছর পরবর্তীতে স্টাফ অফিসার হিসেবে প্রায় ২বছর, প্রমোশন বাগিয়ে নিয়ে ই/এম ৩নং ডিভিশনের ৫নং সাবডিভিশনে প্রায় সাড়ে ৩বছর দাপটের সহিত চাকরি করেছেন স্বৈরাচারের মন্ত্রী, এম পিদের আস্ররয়ে। তিনি যে সকল শেকসনে/সাবডিভিশনে চাকরি করেছেন তার প্রত্যেকটি স্টেশনেই ছিলো বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। তেজাগাঁওয়ে থাকতে যেমনি বড় বড় প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন তেমনি এসডি হয়ে আজিমপুরে ৩ বছরেরও অধিক সময় এপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পে ঘোল ঢেলে অনিয়মের ছড়ি ঘুরিয়ে ক্রিম উঠিযে স্বর আশ্বাদন করে আরো উজ্জ্বীবিত হয়েছেন লাগাতার লুটপাটে। বর্তমানে গোটা ডিপার্টমেন্টে উন্নয়ন প্রকল্পের মঙ্গা চললেও খসরুর সাবডিভিশনে দুই বা অধিক বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। আর এসকল প্রকল্পের কাজ দেখেই ধুর্ত ডিপ্লেমা প্রকৌশলী খসরু অবৈধ অর্থের জোরে ও ভন্ড পীরের দরবারে পীরের শানে মোটা অংকের হাদিয়া/তোহফা পেশ করে ভন্ড মুরীদীর নিয়ামতকে কাজে লাগিয়ে ই/এম ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যে কুয়েত সার্কেল হিসেবে পরিচিত ৩নং সার্কেলের ৭নং ডিভিশনে পোষ্টিং করিয়ে নিয়েছেন। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার প্রধান প্রকৌশলীর পদ অবনমন হওয়ার ২৯দিন পূর্বে এক বিতর্কিত অফিস আদেশের মাধ্যমে ‘উত্তম তবারক’ স্বরূপ নিজের মুরিদ মালিক খসরুকে এই প্রাইজ পোষ্টিং দিয়ে শানিত করেছেন। এ নিয়ে আলোচানা সমালোচনা চাউর হয়ে উঠেছে গোটা অধিদপ্তর জুড়ে। আজিমপুরের দায়িত্বে থাকতে বহুতল বিশিষ্ট কার পার্কিং কাজে উর্দ্ধতনদের যোগসাজশে ব্যাপক অনিয়ম আর দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রায় কোটি টাকা লোপাট করেন তিনি। প্রকল্পের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজগুলোর গ্যাপ খুঁজতে ঠিকাদারের অনুপস্থিতিতে কারণে-অকারণে সময়ে অসময়ে সাইট ভিজিটের নাম করে বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারকে ডেকে পাঠিয়ে বিল আটকানোসহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য করতেন তিনি। এভাবে আদায়কৃত ঘুষের টাকা তিনি ডলারে কনভার্ট করে আত্মীয়-স্বজনদের নামে বিদেশে পাচার করে তা আবার দেশে এনে বৈধ করার চেষ্টা করছেন মালিক খসরু। অবৈধ টাকা লেনদেন ও সঞ্চয়ের জন্য ভাই-ভাতিজা শশুর-শাশুড়ি স্ত্রী শালা-শালির নামে প্রায় ২৫টি ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করছেন তিনি। কমিশন/ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থে ঢাকার খিলগাঁওয়ে আলীশান এপার্টমেন্ট, কয়েক বন্ধু মিলে ডেভেলপার ব্যবসা, দেশের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে গরুর খামার ও কমপক্ষে ২০ বিঘা জমিসহ নামে-বেনামে প্রায় ২০ কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী খসরু। অবৈধ টাকার গরমে তিনি এখন ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন। হোটেল মেরিডিয়ান, রেডিসান ওয়াটারগার্ডেন ব্রুসহ বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে পার্টি করাসহ স্যাম্পেন উৎসবে প্রায়ই উপস্থিত থাকেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী জানিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বর্তমানে ই/এম ৭নং ডিভিশনের অধীনে ১৪নং সাবডিভিশনের অধীনে বিডা ভবন, নাক, কান, গলা, ক্যান্সার হাসপাতাল, এনজিও ফাউন্ডেশন ভবন, মাল্টিস্টোরিড গভমেন্ট অফিসিয়াল বিল্ডিং, এসআরডিআই, স্ট্রেনথিং ক্যাপাসিটি অব লাইভস্টক লাইভস্টক, মমতা বহুমুখী মার্কেট, ঢাকা জেলার এসপি অফিস গুলোতে কয়েক কোটি টাকার কাজ চলমান এবং আরো কয়েকশ’ কোটি টাকার কাজ অপেক্ষমান রয়েছে। ঐ প্রকল্প গুলোকে উদ্দেশ্য করে মোটা অংকের পার্সেন্টেজ বাগিয়ে নেয়ার জন্য কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে বর্তমান চেয়ারে পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

তেজগাঁওয়ে থাকতে তিনি বিটাক ভবন, ভুমি ভবন, বিসিক সদর দপ্তর, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১২৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প, ইএনটি হাসপাতাল, সমাজসেবা কমপ্লেক্সসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকার সুবাদে এয়ারকুলার, ভিআরএফ, ফায়ার ডিটেকশন এন্ড প্রটেকশন সিস্টেম, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, বিভিন্ন ধরণের লিফট, জেনারেটর, বিভিন্ন ধরণের বৈদ্যুতিক ক্যাবল ও ফিটিংস সরবরাহ স্থাপন ও ইনস্টেলশেনর নামে ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজগুলোতে কারিগরী কারসাজির আশ্রয় নিয়ে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্য লিফট, বৈদ্যুতিক ক্যাবল/লাইট ও ফিটিংস্ প্রস্তুতকারী কোম্পানীর কাছ থেকেও তাদের মালামাল উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিয়ে বড় অংকের ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। এই ঘুষ বাণিজ্যের ধারা বর্তমানেও বহাল রেখেনে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী খসরু।

নিম্নমাণের কাজ করানোর কারণে ভূমি ভবনের ভিআরএফ ও লিফট নিয়ে বহু যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। লিফট চালুর ৬/৭মাস পরেই ডিপার্টমেন্টের টাকা খরচ করে সার্ভিসিং করিয়ে দিতে হয়েছে, প্রকৌশলী খসরুর বেপরোয়া ঘুষ গ্রহণের কারণে। অফিসটি গার্ডেন ও সিকিউরিটি লাইট পাল্টাতে হয়েছে বছর না যেতেই। স্থাপণাগুলোতে লাগানো সোলার প্যানেলগুলো একদিনের জন্য ব্যবহার করা যায়নি নিম্নমাণের উপকরণ ব্যবহারসহ নির্মাণ ত্রুটির কারণে। এ রকম হাজারো সমস্যা রয়েছে খসরুর দায়িত্বে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ইলেকট্রো-মেকানিক্যালের কাজগুলোতে।

৩নং ডিভিশনের এসডিই থাকতে ব্রাদার্স ইলেকটিকসহ কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে পরোক্ষভাবে ব্যবসা করার অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন ঠিকাদার। ক’ অদ্যক্ষরের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, কাজ সুষ্ঠুভাবে উঠানোর সুবিধার্থে ডি. প্রকৌশলী মালিক খসরুকে ফাইভস্টার হোটেলে আমোদস্ফুর্তি করানোসহ দেশের বিভিন্ন ট্যুরিষ্ট স্পটে প্রমোদ ভ্রমনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি বহুবার। প্রতিবারই তিনি সেখানে ৩/৪দিনের জন্য কখনো বন্ধু/বান্ধবী আবার কখনো পরিবারসহ ভ্রমণে গিয়েছেন। এর পরেও সাইডে গিয়ে বিভিন্ন ধরণের ডিস্টার্ব করেছেন তিনি। তিনি একজন চরিত্রহীন কর্মকর্তা। টাকা আদায়ের জন্য ঠিকাদারের সাথে যে কোন ব্যবহার করতে পারেন তিনি।

ওই ঠিকাদার আরো জানায়, ২০৯২৪-২৫ অর্থবছরে ১১,৩১,১১৭/-টাকা চুক্তিমূল্যে আজিমপুরের পলাশী সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের বিভিন্ন ভবনে পুড়ে যাওয়া সার্ভিস ও সাবমেইন ক্যাবল ফিটিং ফিক্সারস্ পরিবর্তনসহ আনুসাঙ্গিক ইলেকট্রিক মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং একই অর্থবছরে ৭,৯১,৭০,৮৯১/- টাকা চুক্তিমূল্যে আজিমপুর কলোনীর জোন-এ-তে সরকারি অফিসারদের জন্য বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ প্রকল্পে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন যন্ত্রপাতি আরএমইউ এইচটি মিটারিং ইউনিট ও ক্যাবল সরবরাহ স্থাপন টেষ্টিং কমিশনিংসহ আনুসাঙ্গিক বৈদ্যুতিক কাজগুলোতে ঠিকাদারের কাছ থেকে মালামাল সরবরাহের গোপণ কন্ট্রাক্ট নিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এছাড়াও সাবষ্টেশন মালামাল জেনারেটর সোলার প্যানেল এক্সটারনাল ইলেকট্রিফিকেশন এয়ারকুলার এসভিআরএফ ভেন্টিলেশন সিস্টেম পিএবিএক্স ও ইন্টারকম সিস্টেম সিসিটিভি ফায়ার প্রকেটশন ও ডিকেটকশন সিস্টেম ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্টস সিকিউরিটি ও গার্ডেন লাইট সরবরাহ ও স্থাপণ কাজগুলোতে নিম্নমাণের চাইনিজ ব্র্যান্ডের মালামাল ব্যবহার করার কারণে হরহামেসাই বিভিন্ন ধরণের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ইলেকট্রিক ও যান্ত্রিক সমস্যা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই এলোটিদের। আজিমপুরে এ রকম শতাধিক কাজে তিনি অনিয়মজাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন ঠিকাদারদের জিম্মি করে। আবার বহু পুরনো মালামাল নিলাম না করেই গোপণে বিক্রি করে দিয়ে কমপক্ষে অর্ধকোটি টাকা একাই পেয়েছেন অর্থ লোভী ক্ষেত্র বিশেষ নারী লোভী এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী।

এসডিই মালিক খসরুর ব্যবহৃত ০১৭১২….৬৪ নং মোবাইলে এই সব অনিয়ম দূর্নীতি কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন গণপূর্ত এর মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর