1. admin@dailyajkerdurnity.com : admin :
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ডিবির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চুরি ও ঘুষের মিথ্যা অভিযোগ; অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন চিত্র এক আলোকিত জনপ্রতিনিধি-গোপদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শরফুদ্দীন ভূঁইয়া সবুজ ফিরে পেলো আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স কিশোরগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, আহত ১ সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী মায়ের দান করা স্কুলে সভাপতি নির্বাচিত ছেলে খায়রুল আলম খান,পিএসসি বৃত্তিতে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ উত্তর গোপদীঘি সপ্রাবি গোপদিঘীর সেই সন্ধ্যা –কবি খাইরুল আলম খান উদ্ধার অভিযানে গিয়ে নিজের সন্তানের লাশ পেলেন পুলিশ সদস্য যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ

ঢাকায় টাকা উড়ে তাই গণপূর্ত ডি. প্রকৌশলী মুমিনুল ইসলাম ঢাকায় ঘোরে

আজকের দুর্নীতি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪৭ বার পঠিত

 

জয়নাল আবেদীন যশোরী

গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী মুমিনুল ইসলাম মুমিনুল। নামে মোমিন হলেও কাজকর্মে তিনি পুরোপুরি অন্য কিছু । তিনি চাকরির শুরু থেকে ঘুরেফিরেই পর্যায়ক্রমে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সেকশনগুলোর দায়িত্বে আছেন। এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী (ডি. প্রকৌশলী) ঢাকার বাইরে কখন চাকরি করেছেন তা নিজেই ভুলে গিয়েছেন। ২০০৪ থেকে শুরু করে প্রায় ২২ বছর ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সেকশগুলো তার দখলে। গত ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকারের আমলে স্বৈরাচার মন্ত্রী, এম, পিদের ক্ষমতার অবৈধ ব্যবহার করে তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেকশন গুলোতে বদলি হয়ে গোপণ ঠিকাদারী ব্যবসা, উর্দ্ধতনদের যোগসাজশে ভূয়া বিল-ভাউচার, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে নিম্নমাণের কাজ করানো। হরেক রকম অনিয়ম দুর্নীতির আর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে টাকার কুমিরে পরিণত হয়েছেন। সেই টাকায় রাজধানীর ঝিগাতলা, মোহম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ি ও জমি কিনেছেন। তবে অধিকাংশ সম্পত্তি নিজের নামে না করে আত্মীয়-স্বজনের নামে রেজিস্ট্রি করেন তিনি। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন অংশে ৫/৭টি বিলাশবহুল এপার্টমেন্ট কুমিল্লায় মার্কেট12।

তিনি নামে-বেনামে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সহায়-সম্পদের মালিক। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম প্রায় ৩ বছর যাবৎ আছেন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এর ধানমন্ডি উপ-বিভাগের সেকশন কর্মকর্তা হিসাবে। এ সময়ে ধানমন্ডিতে গণপূর্ত’র আওতাভূক্ত এলাকাগুলোর প্লট বাড়ি ফ্ল্যাট/এপার্টমেন্ট এর সেল পারমিশনসহ নামজারিতে অনাপত্তিপত্র ইস্যুর নামে ২ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করেছেন উর্দ্ধতনদের যোগসাজশে। এছাড়াও নির্মাণ, মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজগুলোতে লাগাতার অনিয়ম দুর্নীতিতো আছেই। তিনি ৩ বছরেরও অধিক সময়ে ছিলেন অধিদপ্তরের সবচেয়ে লোভনীয় সেকশন নগর গণপূর্ত বিভাগের মন্ত্রীপাড়ার দায়িত্বে। এই বিভাগে আসতে হলে ৫০ লাখ থেকে কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়,গণপূর্ত অধিদপ্তর সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে। এতো বড় অংকের টাকা খরচ করার পেছনে ছিলো বড় ধরনের দুর্নীতি আর লুটপাটের অবারিত সুযোগ। ২০২১, ২২ ও ২৩ সালে তৎকালীন সময়ে সংসদ সদস্যদের বাসায় রান্নার চুলা, বেসিনসহ আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র কেনার নামে প্রয় কোটি টাকা ভূয়া বিল-ভাউচার তৈরী করেন তিনিা। একটি চুলা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হলেও বাস্তবে তা কেনাই হয়নি তবে অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। একই বিল দুই/তিনবার তোলার ঘটনায় ডিভিশনটির সাবেক এসডিই মিঠুন মিস্ত্রি ও এসও মনিরুজ্জামান দুদকের তদন্তে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু একই ধরণের কাজে এর চেয়েও বহুগুণ দুর্নীতি লুটপাটপ করেও উপসহকারী প্রকৌশলী মুমিনুল ইসলাম রয়ে গেছেন ধরাছোয়ার বাইরে। একের পর এক প্রাইজ পোষ্টিং বাগিয়ে নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত বিভাগ সংস্কার কাজের নামে সবচেয়ে বেশি অর্থ লুটপাট হয়ে থাকে। আবাসিক ও অনাবাসিক ভবনের রক্ষণা বেক্ষেণ ও সংস্কারের জন্য ওই সেকশনে প্রতিবছর প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। আরো রয়েছে থোক নামক বিশেষ বরাদ্দের কাজ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই কাজের নামে কোনো কাজ না করেই বিল তোলা হয়। ঠিকাদারের কাছ থেকে চুক্তিমূল্যের ৫০ থেকে ৫৬% ক্ষেত্রবিশেষ এর চেয়েও বেশী নগদ টাকার আদায় করা হয়। সেকশনের অধীনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সুগন্ধা ফরেন সার্ভিস একাডেমী মিনিষ্টার্স এপার্টমেন্ট, অফিসার্স ক্লাব পার্বত্য ভবনসহ মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, বেইলি রোডসহ ভি আইপি এলাকায় একই বাসার নামে বছরে একাধিকবার রক্ষণা বেক্ষণ সংস্কারের বিল তোলা হয়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী একবার সংস্কার হলে পরের বছর সেখানে আর কাজ করা যায় না। এভাবে বছরের পর বছর চলছে এক ধরণের হরিলুট।

একজন সাবেক সিনিয়র সচিব বলেন, এখানে অর্থ অপচয়ের এক কসাইখানা চলমান। একজন কর্মকর্তা বাসা ছাড়লেই নতুন কর্মকর্তার জন্য অপ্রয়োজনীয় সংস্কার দেখিয়ে বিল তোলা হয়। দেয়ালে রঙের দরকার না থাকলেও রঙ করা। বাথরুম ফিটিংস ভালো থাকলেও অযথা পরিবর্তন করা হয়। ১০ হাজার টাকার জিনিস লাগালে বিল দেখানো হয় ১ লক্ষ টাকা। হাউজকিপিংয়ের নামে মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত জিনিস কেনার ভুয়া বিল তোলার অভিযোগও আছে। বিশেষ করে জুন মাসে বাজেট ক্লোজিংয়ের সময় ভুয়া ভাউচার তৈরির ধুম পড়ে যায়।

তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযো তদন্ত ও দুদকের মামলার পর তাকে বদলি করা হয়। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুমিনুল ইসলামকেও বদলি করে ঢাকা-২ বিভাগে পাঠানো হয়। প্রশ্ন উঠেছে-দশম গ্রেডের একজন চাকরিজীবী কীভাবে রাজধানীতে এতো ফ্ল্যাটের মালিক হলেন?

তিনি ধানমন্ডির আগে তেজগাঁওয়ে কর্মরত অবস্থায়ও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ ছিলো। পরে নগর গণপূর্ত বিভাগে বদলি হয়ে আসেন তিনি জানা যায়, এই বিভাগে আসতে হলে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়। ধারণা করা হয় এতো টাকা খরচ করার পেছনে ছিল আরও বড় ধরনের দুর্নীতি সুযোগ।

তৎকালীন সময়ে সংসদ সদস্যদের বাসায় রান্নার চুলা, বেসিনসহ আনুষাঙ্গিক কেনার নামে ভূয়া-ভাউচার তৈরী করেন তিনি। একটি চুলা ১৫ থেকে ২০ হাজ টাকায় কেনা হয়েছে বলে দেখানো হলেও বাস্তবে তা কেনাই হয়নি এমন অসংখ অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। একই বিল দুইবার/তিনবার তোলার ঘটনায় এসডিই মিস্ত্রি ও এসও মনিরুজ্জামান দুদকের তদন্তে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু একই ধরণের কাজ তার চেয়েও বেশী আকাম-কুকাম করে উপসকারী প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম রয়ে গেছেন ধরাছোয়ার বাইরে।

অভিযোগ রয়েছে, নগর গণপূর্ত বিভাগ সংস্কার কাজের নামে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম, দূর্নীতি, লুটপাট হয়ে থাকে। আবাসিক ও অনাবাসিক ভবনের সংস্কারের জন্য প্রতিবছর ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই কোনো কাজ না করেই বিল তোলা হয়। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, বেইলি রোডসহ ভিআইপি এলাকায় এ বাসার নামে বছরে একাধিকবার সংস্কারের বিল তোলা হয়। অথচ নিয়ম অনুযান একবার সংস্কার হলে পরের বছর সেখানে আর কাজ করা যায় না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপসহকারী প্রকৌশলী মুমিনুল ইসলাম আ’লীগ সরকার ক্ষতায় আসার পরে ২০১১ থেকে ১০১৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা ৩নং গণপূর্ত বিভাগের খাদ্য উপবিভাগের অডিট ভবন সেকশনে, পরবর্তীতে বদলী হয়ে মতিঝিল গণ-বিভাগের সাবডিভিশন-২’তে (১০১৬ থেকে এখানে প্রায় ২ বছর), সেখানে মতিঝিলের এপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পের কয়েকটি ভবনের দায়িত্বে থেকে পুরনো। ভবন নিলাম ও নতুন ভবন মাটির নীচে থাকতেই উর্দ্ধতন অন্যান্য প্রকৌশলীর যোগসাজশে প্রায় ৩০ কোটি টাকার এ্যাডভান্স বিল দিয়ে বড় অংকের পার্সেন্টে গ্রহণ), পরবর্তীতে অবৈধ অর্থ বিনিয়োগ করে তেজগাঁও সাবডিভিশনে (ভূমি ভবিসিক ভবনসহ আরো কয়েকটি বড় প্রকল্প ছিলো মোমিনের সেকশনে), ৩য় মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুসহ ফ্যাসিস্ট আরো একজন মন্ত্রীর সুপারিশে পোষ্টিং বাগিয়ে নেন সিটি ডিভিশনের মন্ত্রীপাড়া সেকশনে (সেখানে ওই সময়ে ফরেন সার্ভিস ট্রেনিং একাডেমী পার্বত্য ভবন অফিসার্স ক্লাব ও সিনিয়র সচিবদের এপার্টমেন্ট নির্মাণ প্রকল্পে কয়েক হাজার টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান), ঝোঁক বুঝে কোপ মেরে তিনি চলে যান ধানমন্ডি সাবডিভিশনে। এখন পুনরায় অন্য কোন ভাল সেকশনে বদলীর জন্য বিরাট অংকের টাকা নিয়ে আটঘাট বেঁধে বদলীর জন্য মাঠে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহকর্মী।

বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য উপসহকারী প্রকৌশলী মুমিনুল ইসলামের সাতে মোবাইলে কথা বলার জন্য কয়েকদফা ফোন দিয়েও কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নী পরবর্তীতে হোয়াটস্ এ্যাপে ম্যাসেজ পাঠালেও কোন রিপ্লাই করেননি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর