1. admin@dailyajkerdurnity.com : admin :
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ডিবির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চুরি ও ঘুষের মিথ্যা অভিযোগ; অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন চিত্র এক আলোকিত জনপ্রতিনিধি-গোপদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শরফুদ্দীন ভূঁইয়া সবুজ ফিরে পেলো আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স কিশোরগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, আহত ১ সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী মায়ের দান করা স্কুলে সভাপতি নির্বাচিত ছেলে খায়রুল আলম খান,পিএসসি বৃত্তিতে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ উত্তর গোপদীঘি সপ্রাবি গোপদিঘীর সেই সন্ধ্যা –কবি খাইরুল আলম খান উদ্ধার অভিযানে গিয়ে নিজের সন্তানের লাশ পেলেন পুলিশ সদস্য যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ

প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকা দিলে চেক পাস না দিলে সর্বনাশ

আজকের দুর্নীতি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩০ বার পঠিত

জয়নাল আবেদীন যশোরী

গণপূর্ত অধিদপ্তরের মেডিকেল কলেজ বিভাগে চলছে হরিলুট। দপ্তরটির নির্বহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এর নেতৃত্ব চলছে হরিলুটে। কৌশলে ঘুষ বাণিজ্য করেন এ এক ধরণের ভন্ডামির আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। গত অর্থবছরে এলটিএম জালিয়াতিসহ কতিপয় ঠিকাদরের মাধ্যমে বেনামে ব্যবসাও করেছেন বলে জানাযায়। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

ভুক্তভোগী অসংখ্য সাধারণ ঠিকাদারের অভিযোগে জানা যায়, প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলে থাকেন টেন্ডার কাজ বা বিলের চেক প্রদানে কোন টাকা দিতে হবে না। কিন্তু বাস্তব অবস্থা পুরোপুরি উল্টো। কার্যাদেশ নেওয়া থেকে শুরু করে চেক গ্রহণ পর্যন্ত কাজের প্রতিটি স্তরেই নির্দিষ্ট হারে পার্সেন্টেজ দিতে হয় ঠিকাদারকে। এপিপি স্বাস্থ্য সেবা স্বাস্থ্য শিক্ষা বা বিশেষ বরাদ্দের যে কোন ক্ষেত্রে ঠিকাদার ওয়ার্কঅর্ডার নিয়ে সাইটে গেলে কাজ করতে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী। তিনি বলে থাকেন কাজ আগেই হয়েছে। ক্যালকুলেটর টিপে হিসাব করে কখনো চুক্তিমূল্যের ৬০% বা এর চেয়েও বেশী টাকা আদায় করেন ঠিকাদারের কাছ থেকে। এ টাকা সেকশন কর্মকর্তা (উপসহকারী প্রকৌশলী), এসডিই ও নির্বাহী প্রকৌশলীর মধ্যে নির্দিষ্ট অনুপাতে ভাগ-বাটোয়ারার পরেই বিলে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় ঠিকাদারকে বিভিন্ন অজুহাতে নাটাই যেই ভাবে ঘোরে ঠিক সেই মতো ঘুর তে হয় টেবিল টু টেবিলে।

আরও জানা যায় গত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ডিভিশনটিতে এপিপি (বার্ষিক কেনাকাটা) খাতে আবাসিকের ১২৩টি কাজে ৬কোটি ২০ লক্ষ টাকা, অনাবাসিকে ১০৫টি কাজে ৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকাসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ২১টি কাজের নামে ৫ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে ১৪টি কাজের নামে ২ কোটি ১৩ লক্ষ টাকাসহ প্রায় ২২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিলো। অভিযোগ উঠেছে এই বরাদ্দের টাকা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন নাকরেই ঠিকাদারের সাথে আঁতাত করে বিল পরিশোধ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

অপরদিকে গত সেপ্টম্বরের প্রথম সপ্তাহে মেরামতের অভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক কান গলা (ইএনটি) বিভাগের ৩০৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদের একাংশের পলেস্তারা খসে পড়ে এক রোগী আহত হয়। মেরামত রক্ষণাবেক্ষনের নামে এক অর্থবছরে এতো টাকা খরচের পরেও কিভাবে পলেস্তারা ভেঙ্গে পড়ে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। ছাদ ও দেয়াল থেকে বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পড়ার কারণে এভাবে বছরের বিভিন্ন সময়ে আহত হচ্ছেন রোগী ও মেডিকেল ছাত্র-ছাত্রীরা।।

এদিকে , ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ পেয়ছেন ৫ কোটি ২ লাখ ৯৭হাজার টাকা। এই বরাদ্দে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের নিচতলায় ট্রায়াজ রুম ক্যাজুয়ালিটি ডাক্তার রুম টয়লেট তৈরী করণসহ পুনঃবিন্যাসের নামে ৪০ লাখ, একই হাসপাতালের মূল ভবনের ৩য় তলার কেবিনের টয়লেটের কমোড স্যানিটারী ফিটিংস ও ভাংগা দরজা জানালা নবায়ন ও রং করাসহ আনুষাঙ্গিক মেরামতের জন্য ৪০ লাখ, একই হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে নতুন টয়লেট জোন ও রোগীদের জন্য অপেক্ষাগার নির্মাণের নামে ২০ লাখ, একই হাসপাতালের পুরাতন জরাজীর্ণ গ্যাসলাইন সমূহ পরিবর্তনসহ আনুষাঙ্গিক মেরামতের জন্য ২০ লাখ, একই হাসপাতালের আওতাধীন ৩২৪, এলিফ্যান্ট রোডের স্টাফ কোয়ার্টারের ৩ ও ৪নং ভবন মেরামতের জন্য ৩২ লাখ, একই হাসপাতালের আওতাধীন ২০৮, লালবাগস্থ পিলখানা স্টাফ কোয়ার্টারের নিরাপত্তা দেয়াল মেরামতের নামে ৩০ লাখ, একই হাসপাতাল-২ এর কেবিনে পানি পড়া বন্ধ করণের নিমিত্তে ওয়াটার প্রুফিং এর নামে ২০ লাখ, হাসপাতালের আওতাধীন ইন্টার্নী ছাত্র হোস্টেলের বাথরুম ও অন্যান্য সংস্কারসহ আনুষাঙ্গিক মেরামতের বিপরীতে ৪০ লাখ, একই হাসপাতাল-২ এর নিচতলা হতে ১০ম তলা পর্যন্ত সিড়ি ঘরসমূহের ভাঙাটালি পরিবর্তন ও রং করাসহ আনুষাঙ্গিক মেরামতের জন্য ২০ লাখ, একই হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের ওয়ার্ড নং-২১৭ এবং ২১৮ এর ডাক্তার এবং রোগীর টয়লেটসমুহের মেরামত ও সংস্কারে ১৫ লাখ, একই হাসপাতালের ওপিডি ভবনের পাশের স্যুয়ারেজ লাইন ও ভূ-গর্ভস্থ লাইন মেরামতের নামে ২০ লাখ, ঢাকা একই হাসপাতালের ওপিডি ভবনের ৩য় তলার ১২, ৩১৩ ওয়ার্ডের মেরামতের জন্য ৩০ লাখ, হাসপাতালের বহি:বিভাগের ৩য় তলার পশ্চিম পাশের ছাদের পানি পড়া বন্ধকরণের নামে ৭ লাখ, একই হাসপাতালের ওটি বিল্ডিং এর ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলার থাই এ্যালুমিনিয়ামের দরজা জানালা নবায়ন ডাক্তার নার্স ও রোগীদের টয়লেট সমূহের মেরামত ও সংস্কারের নামে ২০ লাখ, হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ইউটিলিটি বিল্ডিং এবং মূল ভবনের ছাদের জরাজীর্ণ পানি সরবরাহের পাইপ লাইনসমূহ পরিবর্তনসহ আনুষাঙ্গিক কাজের বিপরীতে ১০ লাখ, হাসপাতালের পরিচালক এর কক্ষের মেরামত ও সংস্কারের নামে ১৫ লাখ, একই হাসপাতাল-২ এর ৩য় তলায় সিসিইউ এর পাশে ছাদের উপরে টিনের ছাউনী দিয়ে সিসিইউ ওয়ার্ড সম্প্রসারণের জন্য ৪৫ লাখ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (সসমেক) হাসপাতালের ১১ তলা ভবনের নীচতলায় জরুরী বিভাগের ওয়ার্ড ডক্টরস রুম সংলগ্ন ল্যাবসমূহ করিডোর এবং বারান্দায় সিভিল ও স্যানিটারী সংস্কারসহ আনুষাঙ্গিক মেরামতের নামে ২৯ লাখ ৯২ হাজার টাকার কাজ, সসমেক হাসপাতালের ১১তলা ভবনের নীচতলার ক্যাজুয়ালটি ওটি ও ওয়ার্ডের আধুনিকায়নের জন্য ২৬ লাখ ৩০ হাজার, সসমেক হাসপাতালের ১১তলা ভবনের গাইনী সার্জারী ও কিং এডওয়ার্ড ভবনের সাধারণ টয়লেট ব্লকে আরসিসি বেসিন স্থাপনের নামে ৯ লাখ ৯৭ হাজার এবং একই হাসপাতালে ১১তলা ভবনের ৩য় তলার স্পেশাল ওটি ৭ম তলার এনআইসি ইউ ৮ম তলার অর্থোপেডিক বিভাগ নিউরোলজি ওটি সংলগ্ন ডাক্তার নার্সদের কক্ষে ড্রেস চেঞ্জ করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের নামে:১২ লাখ ৭১ হাজার টাকার কাজগুলোতে ব্যাপক জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বরাদ্দের বেশীরভাগ অর্থ লোপাট করা হয়েছে।এছাড়া ম্যানুয়ালি কোটেশন করেও সাশ্রয়ের প্রায় দেড় কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঠ কর্মকর্তা। ডিভিশনটির অধীনে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ফিনিসিং কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক ও নার্সেরা। একাজে জুন মাসে অগ্রীম বিল দিয়েও ৩%/৪% হারে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। অবৈধ টাকার গরমে দেশ-বিদেশে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মান্ডের অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী।

এ বিষয়ে জানতে মেডিকেল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে  কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর