1. admin@dailyajkerdurnity.com : admin :
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ডিবির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চুরি ও ঘুষের মিথ্যা অভিযোগ; অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন চিত্র এক আলোকিত জনপ্রতিনিধি-গোপদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শরফুদ্দীন ভূঁইয়া সবুজ ফিরে পেলো আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স কিশোরগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, আহত ১ সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী মায়ের দান করা স্কুলে সভাপতি নির্বাচিত ছেলে খায়রুল আলম খান,পিএসসি বৃত্তিতে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ উত্তর গোপদীঘি সপ্রাবি গোপদিঘীর সেই সন্ধ্যা –কবি খাইরুল আলম খান উদ্ধার অভিযানে গিয়ে নিজের সন্তানের লাশ পেলেন পুলিশ সদস্য যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ

বরশালঘর ভূমি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন

আজকের দুর্নীতি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২১৭ বার পঠিত

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেবিদ্বার, কুমিল্লা

দেবিদ্বার উপজেলার বরশালঘর ইউনিয়ন ভূমি অফিস দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ–দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। সর্বশেষ মৃত শফিকুল ইসলামের সহধর্মিণী নার্গিস বেগমের খারিজসংক্রান্ত ভোগান্তিই এই অনিয়মের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামা একুশে নিউজের ক্যামেরায় ধরা পড়ে নায়েব আবদুল আউয়াল ও অফিস সহায়ক দুলাল হোসেনের প্রকাশ্য ঘুষ লেনদেনের দৃশ্য, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

 

১৩ হাজার টাকার ‘চুক্তি’, অগ্রিম আদায় ভুক্তভোগী নার্গিস বেগম জানান, তার ছেলে হৃদয়ের নামে ২১ শতক জমি খারিজ করতে তিনি শুরুতে অফিস সহায়ক দুলাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

 

দুলাল প্রথমে ১৫ হাজার টাকা দাবি করলেও দরদাম করে ১৩ হাজার টাকায় ‘চুক্তি’ হয়।

 

চুক্তির পর নার্গিস বেগম তাকে ২ হাজার টাকা অগ্রিম ও ৫০০ টাকা যাতায়াত খরচ প্রদান করেন।

 

ঘুষের টাকা নেওয়ার মুহূর্ত—ক্যামেরায় ধরা গত ২০ অক্টোবর একুশে নিউজের অনুসন্ধানী টিম সরেজমিনে গেলে ঠিক সেই সময় দুলাল হোসেন নার্গিস বেগমের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলেন।

 

ক্যামেরা তাক করতেই দুলাল ও নায়েব চেয়ারে থাকা অবস্থায় ছুটোছুটি শুরু করেন, তবে ততক্ষণে পুরো লেনদেনই ক্যামেরাবন্দি হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় ব্যক্তি মোস্তফা সরকারসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান—
তারা নিজ চোখে ঘুষ লেনদেন দেখেছেন এবং দুলালের কাছে বাকি ১১ হাজার টাকা দাবির কথাও শুনেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা হিসেবে টাকাও অফার করেছিলেন দুলাল।

পরিস্থিতি জটিল হলে দুলাল হোসেন ও নায়েব আবদুল আউয়াল দুজনেই ঘটনাটি সত্য বলে স্বীকার করেন।

স্বীকারোক্তি ও ভিডিও প্রমাণ—তবুও প্রশাসনের নীরবতা

প্রকাশ্য ঘুষ লেনদেনের ভিডিও প্রকাশের দুই সপ্তাহ পার হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন—
“ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে দৃশ্যমান প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও স্বতঃপ্রণোদিত উদ্যোগ না নেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ তীব্র হয়েছে।
উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংবাদমাধ্যম কোনো মন্তব্য পায়নি।

দুই মাসেও খারিজ হয়নি, বাড়ছে হয়রানি

নার্গিস বেগম জানান, তিনি গত ১০ অক্টোবর খারিজের আবেদন জমা দেন।
কিন্তু দুই মাস পার হলেও—

কোনো কাগজ পাননি

কেস নম্বরের এসএমএসও আসেনি

অফিসে গেলে দুলাল বলেন—“আজ নয়, কাল পাচ্ছেন”

তিনি অভিযোগ করেন—
“ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। সরকারি সেবা নিতে এসে বারবার প্রতারণার শিকার হচ্ছি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।”

দুলালের সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন

স্থানীয়দের দাবি, একসময় আর্থিক সংকটে থাকা দুলাল হোসেন সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই আর্থিকভাবে ‘সমৃদ্ধ’ হয়ে উঠেছেন।
তাদের অভিযোগ—ঘুষ ও দালালচক্রের সহযোগিতায় তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুলালের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও জানান তারা।

তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার–বহিষ্কারের দাবি

বরশালঘর ভূমি অফিসে খারিজের কাজের ক্ষেত্রে ১৫–২০ হাজার টাকার কমে ফাইল সচল না হওয়ার অভিযোগ বহু দিনের।
প্রশাসনের শিথিল অবস্থানের কারণে নায়েব ও অফিস সহায়কদের দুর্নীতি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

অতএব এলাকাবাসীর দাবি
নায়েব আবদুল আউয়াল ও অফিস সহায়ক দুলাল হোসেনকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, প্রয়োজনে চাকরিচ্যুতি, অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর