
স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের শিবালয় ও দৌলতপুর থানার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বালু সিন্ডিকেটের আধিপত্য। নৌপথে চলাচলকারী নৌযান মালিক ও মাঝিমাল্লারা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্র আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে।

যমুনার বাঘুটিয়া বাজার, চরকাটারি, আলোকদিয়ার চর, কাজির হাট, আরিচা ও পাকুড়িয়া—এ অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে।
স্থানীয় মাঝিমাল্লা ও বাসিন্দাদের অভিযোগ—রাহাতপুর বালুমহলের ইজারাদার মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি মাঝেমধ্যে নৌপথে ক্ষমতার প্রদর্শন করে।
সরেজমিনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের ভাষ্যে, অস্ত্রধারীরা নৌযানে তল্লাশির নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে বালু পরিবহনে বাধা দেওয়া বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে।
অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, হামলার অভিযোগ ,বাঘুটিয়া ও চরকাটারি এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করলে কয়েকবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর দাবি—মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানানোয় সাংবাদিক ও স্থানীয়দের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
৬ ডিসেম্বর রাতের ঘটনা: নৌপথে গুলিবর্ষণ, ভুক্তভোগী মাঝিমাল্লাদের অভিযোগ, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত ৯টার দিকে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাঘুটিয়া চর এলাকায় ট্রলারযোগে মুখোশধারী কয়েকজন অস্ত্রধারী হামলা চালায়।
তারা নৌপথে চলাচলকারী বৈধ বালুবাহী বাল্কহেড লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে কয়েকজন মাঝিমাল্লা আহত হন এবং আশপাশের পুরো চরাঞ্চল আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, যমুনা চরাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বালু উত্তোলন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ইতোমধ্যে কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন, অস্ত্রের মহড়াসহ সব ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।