1. admin@dailyajkerdurnity.com : admin :
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ডিবির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চুরি ও ঘুষের মিথ্যা অভিযোগ; অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন চিত্র এক আলোকিত জনপ্রতিনিধি-গোপদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শরফুদ্দীন ভূঁইয়া সবুজ ফিরে পেলো আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স কিশোরগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, আহত ১ সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী মায়ের দান করা স্কুলে সভাপতি নির্বাচিত ছেলে খায়রুল আলম খান,পিএসসি বৃত্তিতে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ উত্তর গোপদীঘি সপ্রাবি গোপদিঘীর সেই সন্ধ্যা –কবি খাইরুল আলম খান উদ্ধার অভিযানে গিয়ে নিজের সন্তানের লাশ পেলেন পুলিশ সদস্য যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার যানজটভোগান্তিতে যাত্রী-চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা

আজকের দুর্নীতি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৬ বার পঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে গত ১৭ডিসেম্ভর রোজ বুধবার রাত ১২টা থেকে সকাল ১০ঘটিকা পর্যন্ত ১০ঘন্টা,প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর হাইওয়ে থানা এলাকায় একটি পাথরবাহী ট্রাক ও একটি মাছের আধারবাহী ট্রাকের ক্রসিংয়ের সময় সংঘর্ষের ঘটনায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে পাথরবাহী ট্রাকটির একটি চাকা খুলে মহাসড়কের মাঝখানে পড়ে গেলে সড়কটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

 

 

ফলে দেবিদ্বার ইউসুফ পুর থেকে ব্রাহ্মণপাড়া কালামুইড়া ব্রিজ পর্যন্ত শত শত যানবাহন দীর্ঘ সারিতে আটকে থাকে। এতে সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং নিয়মিত যানজট তৈরি হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, উত্তর দিক থেকে আসা অবৈধ মাটি বোঝাই শত শত ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া গতি, ট্রাক থেকে মাটি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া, পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ি স্লিপ করা, সড়কের দুই পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সিএনজি অটোরিকশা দাঁড় করানো এবং যথাযথ পার্কিং ব্যবস্থার অভাব—এসবই দুর্ঘটনা ও যানজটের মূল কারণ।

 

 

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ মাটিবাহী গাড়ির চলাচল বন্ধ করা গেলে যানজট নিরসনের পাশাপাশি দুর্ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তারা আরও জানান, সম্প্রতি ইউসুফপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাটিবাহী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে হাফেজ নামের ছয় বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে।

 

 

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকদের অভিযোগ, শামীম দালাল ও ইউসুফ দালালের মাধ্যমে মাটিবাহী ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, ট্রাক্টর ও ইটভাঙ্গার গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে দিন-রাত টোকেন বাণিজ্য ও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। মামলার ভয় দেখিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হলেও কিছু ‘ম্যানেজ’ করা গাড়ির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন তারা। সরেজমিনে দেখা যায় অবৈধ মাটির গাড়ি ও ট্রাক্টর নাম্বার বিহীন ভারতীয় অবৈধ পন্যবাহি পিকাপ গাড়ি মামলা দেওয়া হয়না।

 

 

মিরপুর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ আক্তার হোসেন জানান, রাত ১২টার দিকে দুটি গাড়ির সংঘর্ষে পাথরবাহী ট্রাকটি মহাসড়কের মাঝখানে বিকল হয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি বলেন, রাস্তার সংকীর্ণতা, ওভারলোড এবং বেপরোয়া ওভারটেকিং—এই তিনটি কারণেই মূলত দুর্ঘটনা ঘটে। বিকল গাড়ি সরানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

 

 

কুমিল্লা থেকে সিলেটগামী যাত্রী তোফায়েল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই সড়কটি মাত্র দুই লেনের হওয়ায় সামান্য দুর্ঘটনা বা গাড়ি বিকল হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। আজ ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বড় শালঘর নতুন বাজার এলাকায় আটকে আছি।”সিএনজি চালক আলা উদ্দিন জানান, রাত ১২টার দিকে পাথরবাহী ট্রাকটি মিরপুর হাইওয়ে থানার সামনে বিকল হয়ে পড়লে ৮–১০ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও সেটি পুরোপুরি সরানো সম্ভব হয়নি। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।এ বিষয়ে মিরপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক ফজলুল হক জানান, রাস্তাটি দুই লেনের হওয়ায় সামান্য দুর্ঘটনা বা যানবাহন বিকল হলেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে রেকার আনতে সময় লাগায় গাড়ি সরাতে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে বিকল গাড়ি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।এই মহাসড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিনই যাত্রী ও চালকদের এমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। অনুসন্ধানী দৃষ্টিকোণ: অবৈধ মাটি পরিবহন ও ‘দালাল সিন্ডিকেট’-এর অভিযোগ

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে আরও গুরুতর অভিযোগ। তাদের দাবি, কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কটি কার্যত একটি প্রভাবশালী দালালচক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বিশেষ করে অবৈধ মাটি পরিবহন, ইটভাটার কাঁচামাল বহনকারী ট্রাক ও নাম্বারবিহীন পিকআপ চলাচলের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে স্পষ্ট বৈষম্য দেখা যাচ্ছে।অভিযোগ অনুযায়ী, শামীম দালাল ও ইউসুফ দালালের মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত যানবাহন থেকে ‘টোকেন’ দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করা হয়। যারা নির্ধারিত টাকা দেয়, তাদের গাড়ির বিরুদ্ধে ওভারলোড, কাগজপত্র বা রুট পারমিট সংক্রান্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বিপরীতে, যারা অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।পরিবহন চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা আদায় হলেও এর কোনো সরকারি রসিদ বা বৈধতার প্রমাণ নেই। এতে একদিকে যেমন রাষ্ট্র বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ ওভারলোড যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনার পেছনে শুধু রাস্তার সংকীর্ণতা নয়—আইনের প্রয়োগে দুর্বলতা ও অবৈধ পরিবহন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাই বড় কারণ। অবৈধ মাটি পরিবহন বন্ধ, সড়কের দুই পাশে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ এবং অভিযোগকৃত দালালচক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এই মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়দের দাবি—দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, অবৈধ মাটিবাহী যান চলাচল বন্ধ এবং স্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা না হলে কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কটি আরও বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়বে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর