
————————————————————-নাসির উদ্দীন হারুন
হাজার বছরের বাঙালির শৌর্য বীর্য ও বীরত্বের ইতিহাস ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য যথাযথ ভাবে সংরক্ষিত হওয়া আবশ্যক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একদিনে সূচিত হয়নি । বাঙালির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদের বলিষ্ঠ চেতনা যুগ যুগ ধরে বাঙালি জাতিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে করেছে সঠিক পথ নির্দেশ।
যুগে যুগে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত এই শ্যামল ভু খন্ডে অজানা অচেনা স্থান থেকে এসে আর্য অনার্য বহু জাতি-উপজাতি বসতি স্থাপন করেছে পদ্মা মেঘনা যমুনার তীরে তীরে। ঐতিহাসিক কারণেই সমগ্র জাতি বিদেশী শাসন ও শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে ।
পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার শোচনীয় পরাজয়ের পর দুই শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের জন্য যে সমস্ত আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তাতে বাঙালির অবদান অবিস্মরণীয়। ৫২’ র ভাষা আন্দোলনে উত্তপ্ত রক্তবীজ থেকে রাজনৈতিক ক্রমবিকাশের মধ্যে দিয়ে এদেশের লক্ষ কোটি মেহনতি মানুষ দুর্বার সংগ্রামের পথ ধরে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে।
২৫’ শে মার্চের সেই কালো রাত্রির যে কলঙ্কিত প্রহরে লক্ষ লক্ষ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা এবং বাঙালি দেশ প্রেমের ইতিহাস রচনা করেন-জন্ম নিলো স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ । অনেকেই মনে করেন অত্যাচার নির্যাতন ও অর্থনৈতিক শোষণ যত বেশীই হোক না কেনো ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ভুল হয়েছে। এই ধারনা যদি পরিপূর্ণতা লাভ করে তাহলে ইতিহাসে মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িত ব্যক্তিদের কোথায় স্থান হবে? মুখ থুবড়ে পড়বে পাক বাহিনীর অধিনায়ক কে: জে: নিয়াজীর আত্নসমর্পন।