1. admin@dailyajkerdurnity.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে মেট্রোরেলে অ”সু”স্থ হয়ে একটু বসার জায়গা চেয়েছিলেন একজন অধ্যাপক। কেউ দেয়নি। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করে মারা গেলেন। আইজিপির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজ আশুলিয়ায় কোটি টাকা চাঁদা দাবী-ফ্যাক্টরী ও জমি দখল-সন্ত্রাসী হামলায় সাংবাদিকসহ আহত-২ মিঠামইনে দূর্গা পূজা উপলক্ষে নাটক মঞ্জস্ত ফ্যাক্টরি দখল নিতে গিয়ে আশুলিয়ায় সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, তীব্র নিন্দা গাজীপুরের কাশিমপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে মেঘা ইয়ার্ন ডাইং মিলস লিমিটেডের শ্রমিকদের আন্দোলন ও ভাঙচুর। কাপাসিয়া সিংহশ্রীতে শারদীয় দুর্গোৎসব: ২টি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম বাহাদূর ও অ্যাড. জাকির হোসেন দেবীদ্বারে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ: ‘পদত্যাগ সরকারের শর্ট-টার্ম প্যারাসিটামল থেরাপি’ সিংহশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বাহাদুর সকলের সমর্থন ও দোয়া প্রত্যাশী

মুনাফার প্রলোভনে বিনিয়োগ, পাচার হওয়া ৪০ কোটি টাকা ফেরত আনলো সিআইডি

আজকের দুর্নীতি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩১ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্ম এমটিএফইয়ের (মেটারভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) মাধ্যমে পাচার হওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করেছে ‍পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।

আজ (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “MTFE Ponzi Scheme”-এর মাধ্যমে দুই লাখ টাকার প্রতারণার শিকার হয়ে খিলগাঁও থানায় ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় এক ভুক্তভোগী প্রায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেন।

পরে সিআইডির তদন্তে উঠে আসে, এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসংখ্য বিনিয়োগকারী কোটি কোটি টাকার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

সংস্থাটির তদন্তে জানা যায়, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই। ফেসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়। ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল ডলার দেখানো হলেও বাস্তবে এসব লেনদেন ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া।

কৃত্রিমভাবে লাভ দেখিয়ে নতুন বিনিয়োগ আনাই ছিল তাদের মূল কৌশল।

সিআইডি জানায়, শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি। পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায় তারা। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে আদায়কৃত প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ওকেএক্স-এ সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে এ অর্থের সঙ্গে প্রতারণা চক্রের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে ওকেএক্স-এর লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় সিআইডি।

আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় সিআইডির নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পাচারকৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

সব প্রক্রিয়া শেষে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সোনালী ব্যাংকের ওই হিসাবে জমা হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।

সিআইডি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সহায়তার ফলে তুলনামূলক স্বল্প সময়ে এই অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দেশের মানুষ লোভের ফাঁদে পড়ে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। এসব চক্রের ফাঁদে পড়ে ভুক্তভোগীরা টাকা, স্বর্ণালংকার, জমিজমা বিক্রি করে টাকা বিনিয়োগ করে। পরে তারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। অনেকেই সামাজিক মর্যাদাসহ নানা কারণে আইনের আশ্রয় নেয় না। তাই আমি গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ করবো আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে আমাদের দেশের মানুষ সচেতন হবে।

এই চক্রের ফাঁদে পড়ে কি পরিমাণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সঠিক সংখ্যা বলা কঠিন। কারণ অনেকেই আমাদের কাছে আসেননি। আমরা চেষ্টা করছি ভুক্তভোগীদের হারানো অর্থ আইন অনুযায়ী ফেরত দিতে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর