1. admin@dailyajkerdurnity.com : admin :
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ডিবির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চুরি ও ঘুষের মিথ্যা অভিযোগ; অনুসন্ধানে মিলল ভিন্ন চিত্র এক আলোকিত জনপ্রতিনিধি-গোপদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শরফুদ্দীন ভূঁইয়া সবুজ ফিরে পেলো আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স কিশোরগঞ্জে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, আহত ১ সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী মায়ের দান করা স্কুলে সভাপতি নির্বাচিত ছেলে খায়রুল আলম খান,পিএসসি বৃত্তিতে উপজেলায় শ্রেষ্ঠ উত্তর গোপদীঘি সপ্রাবি গোপদিঘীর সেই সন্ধ্যা –কবি খাইরুল আলম খান উদ্ধার অভিযানে গিয়ে নিজের সন্তানের লাশ পেলেন পুলিশ সদস্য যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ

১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদানের মিটিং ১৫ জুন সোমবার এলজিইডির চলতি দায়িত্ব বানিজ্য

আজকের দুর্নীতি ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ১০৮ বার পঠিত

 

জয়নাল আবেদীন যশোরী

১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদানের মিটিং ১৫ জুন সোমবার
এলজিইডির চলতি দায়িত্ব বানিজ্য

জয়নাল আবেদীন যশোরী

১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদানের জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চলতি দায়িত্ব প্রদানে নিরুৎসাহিত করে
নিয়োগ বিধি ও পদোন্নতি বিধির তোয়াক্কা করে না এলজিইডি
বিশেষ প্রতিনিধি:
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চলতি দায়িত্ব প্রদান নিরুৎসাহিত করলেও এলজিইডি চলতি দায়িত্ব প্রদানে উৎসাহিত। চলতি দায়িত্ব দিলে দুই বারে ডাবল ঘুষ নেয়া যায়। পর্যাপ্ত পদ শূন্য না থাকলেও সম্প্রতি ১৯৭ সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এলজিআরডি মন্ত্রনালয়। একই ভাবে শূন্য পদ না থাকায়ও ১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদানের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এক্ষেত্রে নিয়োগ বিধি, পদোন্নতি বিধির তোয়াক্কা করেনি এলজিইডি। শুধু ঘুষকে প্রাধান্য দিয়েছে তারা।
১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান প্রস্তাব: প্রায় দুই মাস পূর্বে নিয়ম নীতি ও পদোন্নতি বিধির তোয়াক্কা না করে ১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে পাঠায় এলজিইডি। এক্ষেত্রেও ঘুষ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায় এই ১৩০ জনের নিকট থেকে পাঁচ লাখ হারে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ঘুষ উঠায় এলজিইডির প্রসাশন শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা । সূত্র জানায় তাদের সাথে কথা ছিল ঈদুল আজহার পূর্বে এই পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা হবে কিন্তু তা না হওয়ায় তারা চাপ দিতে থাকে। প্রসাশন শাখার এক কর্মকর্তা এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে ১৫ জুন সোমবার সকাল ১১টায় মিটিং ডেকেছে মন্ত্রনালয় ।ওই মিটিংয়ে হয়তো প্রজ্ঞাপন জারি হবে ১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদানের । সূত্র জানায় ৬/৭ মাস পূর্বে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন ১৮৭ টি সহকারী প্রকৌশলীর পদ শূন্য আছে। এর মধ্যে ১২৪ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতির জন্য পিএসসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং ইতোমধ্যে আরো ৪০ জনকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।সেই হিসেবে শূন্য পদ ২৪ টি,হয়তো ইতোমধ্যে আরো কয়েকজন অবসরে গেছেন।আবার ৫/৬ মাস পরে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী ১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান প্রস্তাবে উল্লেখ করেন সহকারী প্রকৌশলী শূন্য পদ ৩১১ টি। ৫/৬ মাসে শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে ২৮০ জন হল এই শুভঙ্করের ফাঁকি প্রকৃত রহস্য কি? মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখবে ধারনা দায়িত্বশীলদের।
চলতি দায়িত্ব প্রদান বিধি লঙ্ঘন:
সরকারি পদোন্নতি বিধিতে উল্লেখ আছে পদোন্নতি দীর্ঘায়িত হলে দাফতরিক কাজ চলমান রাখতে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে সে ক্ষেত্রে দফতরের গ্রেডেশন লিস্টের প্রথম থেকে চলতি দায়িত্ব দিতে হবে। ওই ১৩০ জনের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। সূত্র জানায় গ্রেডেশন লিস্টের ১০০ জনের পর থেকে ওই ১৩০ জনকে নেয়া হয়েছে। এখানে নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে। বঞ্চিত হচ্ছে অনেকে। শুধু তাই নয় কম্পিউটার টাইপিস্ট,স্কোর কিপার, কমিউনিটি অর্গানাইজারকেও এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এলজিইডির নিয়োগ বিধিতে উল্লেখ আছে সার্ভেয়ার ও কার্যসহকারি পদ ধারিগন বিভাগীয় পরীক্ষায় পাশ করা সাপেক্ষে শূন্য পদের ১০% কে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতি দেয়া যাবে। অথচ ১৩০ জনের মধ্যে স্টোর কিপারকেও সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।ওহাব গ্রুপ নামে খ্যাত বিতর্কিত ১২ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতি দেয়া হয়েছে যাদের মধ্যে সার্ভেয়ার,স্কোর কিপার, কমিউনিটি অর্গানাইজার ও কম্পিউটার অপারেটর রয়েছে।
রিট পিটিশন নং ৮৪৩১/২০১১ ওহাব গ্রুপ নামে পরিচিত। যাদের রায়ের সাথে প্রজ্ঞাপনের আদেশের কোন মিল নেই। মহামান্য হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ আছে তাদেরকে উপসহকারী প্রকৌশলী /নকশাকার উপসহকারী প্রকৌশলী পদে রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে। ওহাব গ্রুপের সকলে রাজস্ব খাতে কর্মরত ছিলেন একজন সরকারী কর্মচারীকে রাজস্ব খাতে কর্মরত থাকা অবস্থায় পুনরায় কিভাবে তাদের রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে বলে। রায় পর্যালোচনা করলে আরো দেখা যায় যে তাদের পদোন্নতির বিষয়ে ও জ্যেষ্ঠতা প্রদানের বিষয়ে কোটের কোন নির্দেশনা ছিলনা। তবুও এলজিইডি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাদেরকে ২০০৬ সাল হতে উপসহকারী প্রকৌশলী পদের পদোন্নতি ও জৈষ্ঠতা প্রদান করেছে। ২০০৬ সাল থেকে তাদের জ্যেষ্ঠতা প্রধানের ব্যাপারে কোর্টের রায় ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কোথাও উল্লেখ নেই।
কোর্টের বিতর্কিত রায়ে পদোন্নতি ও টাইমস্কেল দেওয়ার কথা উল্লেখ না থাকলেও ওই ১২ জনকে টাইমস্কেল দেওয়ার কারনে প্রত্যেকে ৪০/৪৫ লাখ টাকা পেয়েছেন এতে সরকারের গচ্চা গেছে প্রায় ছয় কোটি টাকা। তাদের মধ্য থেকে তিন জন প্রত্যেকের নিকট থেকে সাত লাখ টাকা হারে ঘুষ নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতি দিতে এই ১৩০ জনের মধ্যে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অন্যদের নিকট থেকে পাঁচ লাখ হারে ঘুষ উঠিয়েছেন।
রায়ের সার সংক্ষেপ -“Accordingly, the Rule is disposed of with a direction upon the respondents to regularize the petitioners in the posts of Draftsman/Sub-Assistant Engineer of LGED under the revenue head in the Local Government Engineering Department (LGED) under the Ministry of Local Government, Rural Development and Co-operatives (LGRD) against the vacant permanent post as expeditiously as possible, subject to the condition that they are otherwise not disqualified.”
এর অনুবাদ “অতএব, রুলটি নিষ্পত্তি করা হলো এই মর্মে যে, প্রতিপক্ষগণকে নির্দেশ প্রদান করা যাচ্ছে যাতে তারা আবেদনকারীদের অন্যথায় অযোগ্য বিবেচিত না হলে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর রাজস্ব খাতভুক্ত শূন্য স্থায়ী পদে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন এলজিইডি-তে ড্রাফটসম্যান/উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যত দ্রুত সম্ভব নিয়মিতকরণ করেন।”
রায়ে উল্লেখ আছে ‘অযোগ্য বিবেচিত না হলে’ কিন্তু তারা রায় তোয়াক্কা না করে স্টোর কিপার, কমিউনিটি অর্গানাইজার ও কম্পিউটার অপারেটরকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতি দিয়েছেন। রায়ের উল্লেখ আছে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে,অথচ তাদের চাকরি রাজস্ব খাতেই ছিল।
এলজিইডির কর্তাব্যক্তিরা কোনো নিয়ম নিয়তির তোয়াক্কা না করে শুধু টাকা কামানোর উদ্দেশ্যে চলতি দায়িত্ব বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এই প্রতিবেদককে বলেন,যদি পদ শূন্য থাকে তাহলে চলতি দায়িত্বের প্রস্তাব কেন? সরাসরি পিএসসিতে প্রস্তাব পাঠানো হোক। অনেকে মন্তব্য করেছেন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী আবার এক্সটেনশন নিতে চান সেজন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন তাই তিনি দ্রুত টাকা আসে সেই পথে হাঁটছেন। চলতি দায়িত্ব, পোস্টিং,বদলি বানিজ্যে থেকে দ্রুত টাকা আসবে তাই এদিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি ।
দায়িত্ব প্রদানের জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের পায়তারা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চলতি দায়িত্ব প্রদানে নিরুৎসাহিত করে
নিয়োগ বিধি ও পদোন্নতি বিধির তোয়াক্কা করে না এলজিইডি
বিশেষ প্রতিনিধি:
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চলতি দায়িত্ব প্রদান নিরুৎসাহিত করলেও এলজিইডি চলতি দায়িত্ব প্রদানে উৎসাহিত। চলতি দায়িত্ব দিলে দুই বারে ডাবল ঘুষ নেয়া যায়। পর্যাপ্ত পদ শূন্য না থাকলেও সম্প্রতি ১৯৭ সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এলজিআরডি মন্ত্রনালয়। একই ভাবে শূন্য পদ না থাকায়ও ১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদানের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এক্ষেত্রে নিয়োগ বিধি, পদোন্নতি বিধির তোয়াক্কা করেনি এলজিইডি। শুধু ঘুষকে প্রাধান্য দিয়েছে তারা।
১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান প্রস্তাব: প্রায় দুই মাস পূর্বে নিয়ম নীতি ও পদোন্নতি বিধির তোয়াক্কা না করে ১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে পাঠায় এলজিইডি। এক্ষেত্রেও ঘুষ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায় এই ১৩০ জনের নিকট থেকে পাঁচ লাখ হারে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ঘুষ উঠায় এলজিইডির প্রসাশন শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা । সূত্র জানায় তাদের সাথে কথা ছিল ঈদুল আজহার পূর্বে এই পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা হবে কিন্তু তা না হওয়ায় তারা চাপ দিতে থাকে। প্রসাশন শাখার এক কর্মকর্তা এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে ১৫ জুন সোমবার সকাল ১১টায় মিটিং ডেকেছে মন্ত্রনালয় ।ওই মিটিংয়ে হয়তো প্রজ্ঞাপন জারি হবে ১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদানের । সূত্র জানায় ৬/৭ মাস পূর্বে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন ১৮৭ টি সহকারী প্রকৌশলীর পদ শূন্য আছে। এর মধ্যে ১২৪ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতির জন্য পিএসসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং ইতোমধ্যে আরো ৪০ জনকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।সেই হিসেবে শূন্য পদ ২৪ টি,হয়তো ইতোমধ্যে আরো কয়েকজন অবসরে গেছেন।আবার ৫/৬ মাস পরে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী ১৩০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান প্রস্তাবে উল্লেখ করেন সহকারী প্রকৌশলী শূন্য পদ ৩১১ টি। ৫/৬ মাসে শূন্য পদের সংখ্যা বেড়ে ২৮০ জন হল এই শুভঙ্করের ফাঁকি প্রকৃত রহস্য কি? মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখবে ধারনা দায়িত্বশীলদের।
চলতি দায়িত্ব প্রদান বিধি লঙ্ঘন:
সরকারি পদোন্নতি বিধিতে উল্লেখ আছে পদোন্নতি দীর্ঘায়িত হলে দাফতরিক কাজ চলমান রাখতে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে সে ক্ষেত্রে দফতরের গ্রেডেশন লিস্টের প্রথম থেকে চলতি দায়িত্ব দিতে হবে। ওই ১৩০ জনের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। সূত্র জানায় গ্রেডেশন লিস্টের ১০০ জনের পর থেকে ওই ১৩০ জনকে নেয়া হয়েছে। এখানে নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে। বঞ্চিত হচ্ছে অনেকে। শুধু তাই নয় কম্পিউটার টাইপিস্ট,স্কোর কিপার, কমিউনিটি অর্গানাইজারকেও এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এলজিইডির নিয়োগ বিধিতে উল্লেখ আছে সার্ভেয়ার ও কার্যসহকারি পদ ধারিগন বিভাগীয় পরীক্ষায় পাশ করা সাপেক্ষে শূন্য পদের ১০% কে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতি দেয়া যাবে। অথচ ১৩০ জনের মধ্যে স্টোর কিপারকেও সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।ওহাব গ্রুপ নামে খ্যাত বিতর্কিত ১২ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতি দেয়া হয়েছে যাদের মধ্যে সার্ভেয়ার,স্কোর কিপার, কমিউনিটি অর্গানাইজার ও কম্পিউটার অপারেটর রয়েছে।
রিট পিটিশন নং ৮৪৩১/২০১১ ওহাব গ্রুপ নামে পরিচিত। যাদের রায়ের সাথে প্রজ্ঞাপনের আদেশের কোন মিল নেই। মহামান্য হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ আছে তাদেরকে উপসহকারী প্রকৌশলী /নকশাকার উপসহকারী প্রকৌশলী পদে রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে। ওহাব গ্রুপের সকলে রাজস্ব খাতে কর্মরত ছিলেন একজন সরকারী কর্মচারীকে রাজস্ব খাতে কর্মরত থাকা অবস্থায় পুনরায় কিভাবে তাদের রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে বলে। রায় পর্যালোচনা করলে আরো দেখা যায় যে তাদের পদোন্নতির বিষয়ে ও জ্যেষ্ঠতা প্রদানের বিষয়ে কোটের কোন নির্দেশনা ছিলনা। তবুও এলজিইডি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাদেরকে ২০০৬ সাল হতে উপসহকারী প্রকৌশলী পদের পদোন্নতি ও জৈষ্ঠতা প্রদান করেছে। ২০০৬ সাল থেকে তাদের জ্যেষ্ঠতা প্রধানের ব্যাপারে কোর্টের রায় ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কোথাও উল্লেখ নেই।
কোর্টের বিতর্কিত রায়ে পদোন্নতি ও টাইমস্কেল দেওয়ার কথা উল্লেখ না থাকলেও ওই ১২ জনকে টাইমস্কেল দেওয়ার কারনে প্রত্যেকে ৪০/৪৫ লাখ টাকা পেয়েছেন এতে সরকারের গচ্চা গেছে প্রায় ছয় কোটি টাকা। তাদের মধ্য থেকে তিন জন প্রত্যেকের নিকট থেকে সাত লাখ টাকা হারে ঘুষ নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতি দিতে এই ১৩০ জনের মধ্যে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অন্যদের নিকট থেকে পাঁচ লাখ হারে ঘুষ উঠিয়েছেন।
রায়ের সার সংক্ষেপ -“Accordingly, the Rule is disposed of with a direction upon the respondents to regularize the petitioners in the posts of Draftsman/Sub-Assistant Engineer of LGED under the revenue head in the Local Government Engineering Department (LGED) under the Ministry of Local Government, Rural Development and Co-operatives (LGRD) against the vacant permanent post as expeditiously as possible, subject to the condition that they are otherwise not disqualified.”
এর অনুবাদ “অতএব, রুলটি নিষ্পত্তি করা হলো এই মর্মে যে, প্রতিপক্ষগণকে নির্দেশ প্রদান করা যাচ্ছে যাতে তারা আবেদনকারীদের অন্যথায় অযোগ্য বিবেচিত না হলে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর রাজস্ব খাতভুক্ত শূন্য স্থায়ী পদে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন এলজিইডি-তে ড্রাফটসম্যান/উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যত দ্রুত সম্ভব নিয়মিতকরণ করেন।”
রায়ে উল্লেখ আছে ‘অযোগ্য বিবেচিত না হলে’ কিন্তু তারা রায় তোয়াক্কা না করে স্টোর কিপার, কমিউনিটি অর্গানাইজার ও কম্পিউটার অপারেটরকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদোন্নতি দিয়েছেন। রায়ের উল্লেখ আছে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়মিত করতে,অথচ তাদের চাকরি রাজস্ব খাতেই ছিল।
এলজিইডির কর্তাব্যক্তিরা কোনো নিয়ম নিয়তির তোয়াক্কা না করে শুধু টাকা কামানোর উদ্দেশ্যে চলতি দায়িত্ব বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এই প্রতিবেদককে বলেন,যদি পদ শূন্য থাকে তাহলে চলতি দায়িত্বের প্রস্তাব কেন? সরাসরি পিএসসিতে প্রস্তাব পাঠানো হোক। অনেকে মন্তব্য করেছেন বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী আবার এক্সটেনশন নিতে চান সেজন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন তাই তিনি দ্রুত টাকা আসে সেই পথে হাঁটছেন। চলতি দায়িত্ব, পোস্টিং,বদলি বানিজ্যে থেকে দ্রুত টাকা আসবে তাই এদিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর