
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভালোবাসার সঙ্গে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক আয়োজনে বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন সন্তানেরা।
পরিবারের প্রধান অভিভাবক হিসেবে একজন বাবা শুধু অর্থনৈতিক দায়িত্বই পালন করেন না, সন্তানের নৈতিক শিক্ষা, আদর্শ গঠন, সাহস ও আত্মবিশ্বাস তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সন্তানের সুখ-দুঃখ, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে একজন বাবার ত্যাগ, পরিশ্রম ও সংগ্রাম অনস্বীকার্য।
বাংলাদেশে বাবা দিবসকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ। অনেকেই বাবার সঙ্গে তোলা ছবি, স্মৃতিচারণ ও আবেগঘন বার্তা শেয়ার করে বাবার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। যাদের বাবা আর বেঁচে নেই, তারা দোয়া ও স্মৃতিচারণের মাধ্যমে তাঁদের স্মরণ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যস্ত জীবনের নানা চাপে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ কমে যায়। বাবা দিবস সেই ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তবে শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় নয়, বছরের প্রতিটি দিনই বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, যত্ন ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা উচিত।
উল্লেখ্য, বাবা দিবসের সূচনা হয় ১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। বাবার প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি দিবসে পরিণত হয়েছে।
বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা পৃথক বাণীতে সকল বাবার প্রতি শুভেচ্ছা ও সম্মান জানিয়েছেন। দিবসটি ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
“বাবা—একটি নাম নয়, নিরাপত্তা, ভালোবাসা, ত্যাগ ও নির্ভরতার আরেক নাম।”